ফরিদপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যায় স্বামীর আমৃত্যু জেল, আরেক কিশোরকে ‘পুড়িয়ে হত্যার’ অভিযোগ

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এদিকে জেলা সদরের অন্য একটি এলাকায় বসতঘরে আগুনে পুড়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। তবে পারিবারের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এটি পরিকল্পিত হত্যা।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন স্ত্রী হত্যার মামলার রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত রাশেদ মোল্লা (৩১) ফরিদপুর সদরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। 

অন্যদিকে, রোববার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নে আগুনে পুড়ে মারা গেছে মাদ্রাসাছাত্র তামিম মিয়া (১৬)।

স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী জোসনা বেগমের (২১) ওপর যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালাতেন রাশেদ। ২০২০ সালের ১৬ জুলাই আবারও ৫০ হাজার টাকা দাবি করলে তা দিতে অপারগ হওয়ায় জোসনার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা নেওয়ার পথে ১৭ জুলাই তার মৃত্যু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী জানান, আদালত রাশেদকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। এছাড়া যৌতুক নেওয়ার অপরাধে তাকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

কিশোরের মৃত্যু: পরিবারের দাবি ‘পরিকল্পিত হত্যা’

এদিকে রোববার রাতে সদর উপজেলার পূর্ব বাখুন্ডা গ্রামে দুবাই প্রবাসী রফিক মিয়ার বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তার ছেলে তামিম মিয়ার মৃত্যু হয়। স্বজনদের দাবি, প্রতিবেশী দুটি পরিবারের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ঘর ও বাড়ির প্রধান ফটক বাইরে থেকে শিকল দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছিলো যাতে তামিম বের হতে না পারে।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হলেও পরিবারের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেন বলেন, তদন্ত করে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।