কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৩৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও এক হাজার জনকে আসামি করে এই মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম আরিফুর রহমান মামলার বিষয়টি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ওসিসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় শনিবার রাতে উপপরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার টান লক্ষিয়া ও হাপানিয়া গ্রামের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা চলাকালে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে ওইদিন রাতেই দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল থেকে আবারও দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের হামলায় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে গ্রামবাসীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ওসি এস এম আরিফুর রহমানসহ চার পুলিশ সদস্য এবং উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হন।
ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।