ফোনে স্ত্রীকে বলেছিলেন ‘আমাকে বাঁচাও’, সকালে মিললো মরদেহ

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হানিফ মিয়া (৩৫) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৩ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ফোনে স্ত্রীকে ‘আমাকে বাঁচাও’ বলে আকুতি জানিয়েছিলেন হানিফ। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে বাড়ির অদূরে একটি পতিত জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে।

নিহত হানিফ মিয়া উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকার ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে। স্বজনদের দাবি, পাড়ার জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তি রাতে তাকে ডেকে নেওয়ার পর এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সকালে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত জাকিরের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে তিনটি ঘর ও একটি মোটরসাইকেল পুড়ে যায়।

নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে একই এলাকার জাকির হোসেন হানিফকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হানিফ তাকে ফোন করে চিৎকার করে বলেন, ‘আমাকে বাঁচাও, জাকির হোসেন আমাকে মেরে ফেলবে।’ খবর পেয়ে স্বজনরা জাকিরের বাড়িতে গেলেও গেট বন্ধ থাকায় ভেতরে ঢুকতে পারেননি। পরে ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ এসে তল্লাশি চালিয়ে জাকিরের বাড়ির কাছেই হানিফের নিথর দেহ খুঁজে পায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। মাদকসংক্রান্ত কোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুলিয়ারচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোবারক হোসেন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এ পর্যন্ত পাঁচ জনকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত প্রধানআসামিসহ বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।