চুল আর চোখের চাউনিতে হুবহু মিল! আর সেই রূপের জাদুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, সবখানেই রীতিমতো কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল এলভিনো জাতের এক মহিষ, যার নাম রাখা হয়েছিল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। তবে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে তুমুল আলোচনায় থাকা এই ভাইরাল মহিষটিকে এবার অশ্রুসজল, কিন্তু চরম ধামাকাপূর্ণ এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদায় জানাল রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্ম কর্তৃপক্ষ।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর জিনজিরা এলাকা থেকে ক্রেতা সামির যখন তাঁর সাধের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে নিতে খামারে হাজির হন, তখন সেখানে উঁকি দেয় এক রাজকীয় আবহ। বিদায়ের আগে ট্রাম্প সাহেবকে সুগন্ধি সাবানে জম্পেশ গোসল করিয়ে একদম বরের সাজে সাজানো হয়।
এরপর যা ঘটল, তা হয়তো খোদ আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্টও কখনো কল্পনা করেননি! রঙিন ধোঁয়া উড়িয়ে, উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে আস্ত এক লাল গালিচায় হাঁটিয়ে রাজকীয় কায়দায় খামার থেকে বিদায় দেওয়া হয় এই চারপেয়ে ট্রাম্পকে।
খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধা বেশ হেসেই জানান, মহিষটির গায়ের রঙ, চুল আর চোখের অদ্ভুত গঠনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেহারার মিল দেখেই মজা করে এই নাম রেখেছিলেন তাঁরা। কিন্তু কে জানত, এই মজাই পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়বে! তিনি আরও বলেন, আজকাল কোরবানির পশুর এ রকম আজব ও আকর্ষণীয় নামকরণ এক ধরনের ট্রেন্ড বা সাংস্কৃতিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। নেটদুনিয়ায় এমন নাম নিমেষেই মানুষের নজর কাড়ে এবং ফ্রিতেই বিশাল প্রচার এনে দেয়।
খামারের কর্মচারীদের কথায়, গত কয়েকদিন ধরে খামারে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। প্রতিদিন শত শত মানুষ আসতেন শুধু এই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে একনজর দেখতে, সেলফি তুলতে আর টিকটক ভিডিও বানাতে। তবে হোয়াইট হাউসের আসল ট্রাম্পের মেজাজ গরম থাকলেও, এই ট্রাম্প ছিলেন অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের, যার কারণে বাচ্চারাও মনের সুখে তাঁর পিঠে হাত বুলিয়ে যেত।
প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই দানবীয় মহিষটি অবশ্য ভাইরাল হওয়ার আগেই ভাগ্য খুলে গিয়েছিল। জিনজিরার বাসিন্দা সামির বেশ আগেই কেজি প্রতি ৫৫০ টাকা দরে জ্যান্ত ওজনে এটি কিনে নিয়েছিলেন। ক্রেতা সামির উল্লাস প্রকাশ করে বলেন, "আমি যখন মহিষটা কিনি, তখন সাধারণভাবেই কিনেছিলাম। কিন্তু এখন তো আমার কেনা মহিষ আস্ত এক সেলিব্রেটি! আমাদের এলাকায় অলরেডি হইচই পড়ে গেছে, সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামনাসামনি দেখার জন্য।"
খামার কর্তৃপক্ষের দাবি, এই মহিষের খ্যাতি শুধু দেশের গণ্ডিতেই আটকে থাকেনি, আন্তর্জাতিক মিডিয়ার হেডলাইনেও জায়গা করে নিয়েছে। সব মিলিয়ে, এই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ শুধু একটি কোরবানির পশুর নাম নয়, বরং ডিজিটাল যুগের আধুনিক প্রচারণার এক দুর্দান্ত ও রসালো উদাহরণ হয়ে রইল।