মিঠামইনে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যায় তিন ‘ভাড়াটে খুনি’ আটক

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে (৫২) কুপিয়ে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, আটক ব্যক্তিরা জেলার বাইরের বাসিন্দা এবং তারা মূলত ‘ভাড়াটে খুনি’।

বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাতে মিঠামইন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি জব্দ করেছে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া এলাকার মো. হেলাল (২৫), লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর এলাকার মো. মহিন উদ্দিন (৩২) ও একই উপজেলার নাগমুদ বাজার মধ্যপাড়া এলাকার মো. শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন (২৫)।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন সদর বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন হাদিস নামের এক সঙ্গী। হঠাৎ একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় আহত হাদিস চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে জেলা পুলিশের একাধিক দল। রাতভর অভিযান চালিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং এর মূল মোটিভ কী, তা উদ্‌ঘাটনে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, আটক তিনজনই কিশোরগঞ্জ জেলার বাইরের বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে ধারণা করা হচ্ছে, তারা চুক্তিতে আসা ভাড়াটে খুনি। এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক নাকি অন্য কোনো শত্রুতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে মূল পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।