সাভারের আমিনবাজারে এক রিকশা গ্যারেজের মালিককে পিটুনির প্রতিবাদ করায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে একদল যুবক। এ সময় বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে তার ছোট ছেলেও আহত হন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত আটটার দিকে আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামের মদিনা সিটি জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম মো. আলতাফ হোসেন (৫৮)। তিনি পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক উপপরিদর্শককে (এসআই) ছিলেন। আলতাফ হোসেন ঢাকার মালিবাগে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) কর্মরত ছিলেন। তিনি পরিবার নিয়ে আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় বসবাস করতেন।
ঘটনার পর আলতাফ হোসেনকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা না হলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জহিরুল নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত আটটার দিকে বড়দেশী মদিনা সিটি জামে মসজিদের সামনে রাস্তার পাশে এক রিকশাচালক রিকশা মেরামত করছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেটকার এসে ওই রিকশাকে ধাক্কা দেয় এবং রিকশাটি দ্রুত সরিয়ে নিতে গালাগালি শুরু করে। শব্দ শুনে পাশেই থাকা রিকশা গ্যারেজের মালিক (এক বৃদ্ধ) বাইরে বেরিয়ে এলে প্রাইভেটকারে থাকা যুবকেরা তাকে মারধর করেন।
ঘটনাটি দেখতে পেয়ে কাছেই থাকা এসবি কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন এগিয়ে যান। তিনি প্রাইভেটকারের আরোহীদের বেপরোয়া আচরণ এবং এক বৃদ্ধকে আঘাত করার প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাইভেটকারে থাকা চার-পাঁচজন যুবক আলতাফ হোসেনের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তারা আরও কয়েকজনকে ডেকে এনে আলতাফ হোসেন ও তার ছোট ছেলেকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন।
পিটুনির একপর্যায়ে আলতাফ হোসেন গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং সংজ্ঞাহীন হয়ে যান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিক্যার কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকাবাসী জানান, হামলায় অভিযুক্ত যুবকেরা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াধীন।