নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে তিন স্কুলছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় বাল্কহেডসহ চারজনকে আটক করেছে নৌপুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে নিহত তিন শিক্ষার্থীর ময়নাতদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাড়ি মজলিশ হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে যমজ দুই ভাই আরেফিন আহমেদ (১৫) ও আশেকিন আহমেদের (১৫) দাফন সম্পন্ন হয়। অপর নিহত শিক্ষার্থী আবিদ হোসেনের (১৪) মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি খুলনায় নিয়ে দাফন করা হয়েছে। নিহত তিনজনই মোগরাপাড়া এইচ জি জি এস স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলো।
আটক ব্যক্তিরা হলেন ‘এমবি সোনারগাঁ মদিনা-৪’ নামের বাল্কহেডের সুকানি মো. হাবিবুর রহমান (৪৫), গ্রিজার মো. আবু জাফর (৩৫), লস্কর এবাদুল হাওলাদার (২৫) ও মো. সিফাত (১৯)। মেসার্স রনি এন্টারপ্রাইজের মালিকানাধীন এই বাল্কহেডটির নম্বর ০১-১০৭৭।
বৈধ্যেরবাজার নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক রুহুল আমিন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীরা মেঘনা নদীর পাড়ে থেমে থাকা বাল্কহেডের কাছে গোসল করছিলো। ওই সময় বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু করা হলে পানিতে তীব্র ঘূর্ণির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় এক নারী এক শিক্ষার্থীকে টেনে তুললেও অন্য তিনজন পানিতে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহত যমজ দুই ভাইয়ের বাবা মোহাম্মদ ফারুক বাদি হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা বাল্কহেডে উঠে নদীতে গোসল করছিলো। তারা লাফিয়ে পড়ার পর হুট করেই বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু করা হয়। ইঞ্জিনের পাখার আঘাতে ও পানির ঘূর্ণিতে তলিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশের লোকজন দ্রুত ইঞ্জিন বন্ধ করতে বললেও বাল্কহেডের কর্মীরা তা শোনেননি এবং উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি।
ঘটনার দিন রোববার বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সাড়ে তিনটার দিকে যমজ দুই ভাই আরেফিন ও আশেকিনের এবং বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আবিদের মরদেহ উদ্ধার করে। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বাল্কহেডের চালিত পাখার সঙ্গে ধাক্কা লেগে তারা পানিতে তলিয়ে গিয়েছিলো।