নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মালয়েশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ছয় লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। জাল ভিসা ও বিমানের টিকেট নিয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার পর তা ভুয়া প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগী পরিবার টাকা ফেরত চাইলে তাদের খুন-জহমের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত আট অক্টোবর সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গৌরবর্দী গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল হোসেনকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে প্রতিবেশী মো. কবির হোসেন (৪৫) ও তার সহযোগীরা ২০২৩ সালের ২১ মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ১৯ মে তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে মোট ছয় লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন। পরে কবির হোসেন ভুক্তভোগীকে একটি ভিসা, বিমানের টিকেট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেন।
তবে ইকবাল হোসেন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সেখানকার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সেগুলোকে জাল ও ভুয়া বলে শনাক্ত করেন এবং তাকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেন।
ভুয়া ভিসার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর টাকা ফেরত চাইতে গেলে প্রতারক চক্রটি তালবাহানা শুরু করে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও প্রধান অভিযুক্ত কবির হোসেন টাকা দিতে ব্যর্থ হয়ে জমি লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং পাসপোর্ট ও জাল টিকেট নিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। সর্বশেষ গত ১০ সেপ্টেম্বর অন্য বিবাদিদের কাছে বিচারপ্রার্থী হলে তারাও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ভয়ভীতি দেখায়। বর্তমানে প্রধান অভিযুক্ত কবির হোসেন আত্মগোপনে রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর ছেলে রিফাত হোসেন গত আট অক্টোবর বাদি হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে বিবাদি করে সোনারগাঁ থানায় এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত অপর ব্যক্তিরা হলেন—সুমি আক্তার (৩৭), জুলেখা আক্তার (৭১) এবং মো. জাহাঙ্গীর (৪০)।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল বারিক জানান, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
