সাতক্ষীরায় একই জায়গায় বিএনপির দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘোষণার পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (২২ জানুয়ারি) জেলার শ্যামনগর উপজেলার পৌর এলাকায় বিকেল চারটা থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. রনী খাতুন জানান, এই সময় থেকে পৌর এলাকায় সভা, সমাবেশ ও মিছিল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সন্ধ্যায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানান, শ্যামনগর উপজেলার বিএনপি নেতা সোলায়মান কবীর নেতৃত্বাধীন অংশ বুধবার বিকেল চারটায় উপজেলা সদরের এমএম প্লাজার পাশে কৃষক দলের কার্যালয়ের সামনে উপজেলা ও পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে আনন্দ মিছিলের সঙ্গে সমাবেশ করবে। এজন্য মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) রাত আটটার দিকে শ্যামনগর থানাকে জানানো হয়।
অপরদিকে দলটির অপর অংশের নেতা আব্দুল ওয়াহেদ নেতৃত্বে বুধবার দুপুর দুইটার দিকে একই সময়, একই স্থানে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার কর্মশালা ও লিফলেট বিতরণ করবে বলে ঘোষণা দেয়।
তারা জানান, এই ঘোষণা দেওয়ার পর পরই শ্যামনগরে বিএনপির উভয় পক্ষের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও ১৪৪ ধারা জারি করেন।
দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ১৪ বছর পর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির ৪৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে শ্যামনগর পৌর বিএনপির ৩১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটিও। রোববার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ ইফতেখার আলী ও সদস্যসচিব আব্দুল আলিমের সই করা নতুন এই দুইটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে সোলায়মান কবীরকে আহ্বায়ক ও গোলাম আলমগীরকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। ৯ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে সদস্য করা হয়েছে ৩২ জনকে।
শ্যামনগর পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে শেখ লিয়াকত আলীকে আহবায়ক ও শামছুজ্জোহাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এই কমিটিতে আট জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে সদস্য করা হয়েছে ২৩ জনকে।
কমিটি ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। এরই মধ্যে মঙ্গলবার শ্যামনগর উপজেলার পূর্ববর্তী ও ঘোষিত নতুন কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুল আলীমের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
বিএনপি নেতা আব্দুল ওয়াহেদ জানান, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে বিএনপি নেতা সোলায়মানের নেতৃত্বে একটি মিছিল বংশীপুরের দিকে যাওয়ার সময় মিছিল থেকে তার পক্ষের নেতা আশেক-ই-এলাহির ইসমাইলপুর এলাকার বাড়িতে ইট ছোড়ে। এ সময় তার ছেলেসহ কয়েকজন আহত হয়।
তবে বিএনপি নেতা সোলায়মান কবীর জানান, প্রশাসনের অনুরোধে তারা হায়বাদ এলাকা থেকে বংশীপুর এলাকায় ফিরে যাওয়ার সময় বিএনপি নেতা আশেক-ই-এলাহির বাড়ির ভেতর থেকে তাদের উপর ইট-পাটকেল ছোড়ে। এ সময় তাদের ছয় জন আহত হয়।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবীর মোল্যা জানান, বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ইট পাটকেল ছোড়াছুড়িতে কয়েকজন আহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
শ্যামনগরের ইউএনও জানান, বিএনপির দুই পক্ষ উপজেলা সদরের একই স্থানে কর্মসূচি নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মাঠে রয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা থাকায় পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।