চুয়াডাঙ্গায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব, লণ্ডভণ্ড ফসলের মাঠ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে মাঠের পর মাঠ ফলন্ত কলা, পেঁপে ও ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। কৃষকদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৫০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ছয় কোটি টাকা। তবে ক্ষয়ক্ষতির এই হিসাবের সঙ্গে কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যের বড়ো ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে।

গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় জেলার নতিপোতা ও নাটুদহ ইউনিয়নের ওপর দিয়ে এই কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মনিখালি, মাজেশিষ ও বেড়ের মাঠে ঝড়ের ধ্বংসলীলার চিত্র। কৃষক আলী হোসেন, খাইরুলসহ একাধিক কৃষক জানান, ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যার ঠিক আগে প্রচণ্ড বেগে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কলার বাগানের। মাঠের পর মাঠ কলার গাছ মাঝখান থেকে ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে। একই অবস্থা পেঁপে বাগানেরও। পাশাপাশি শিলাবৃষ্টিতে মাঠের পাকা ধান ঝরে গেছে এবং অনেক স্থানে ধান গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। কৃষকদের হিসাব মতে, প্রতি বিঘায় তাদের দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে কৃষকদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে কৃষি অফিসের তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার জানান, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী চার হেক্টর কলা, চার হেক্টর পেঁপে ও সাত হেক্টর ধানসহ মোট ১৫ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

তবে সরেজমিনে কৃষকদের সঙ্গে মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের প্রায় তিন গুণ। কৃষকদের দাবি, অন্তত ৫০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে, যা টাকার অঙ্কে প্রায় ছয় কোটি টাকা। 

দামুড়হুদা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১৭৫ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, সার, কীটনাশক ও ডিজেলের বাড়তি দামের এই সময়ে তারা ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। কালবৈশাখীর ছোবলে এখন সব হারিয়ে তারা নিঃস্ব। নতিপোতা গ্রামের কৃষকরা আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি সহায়তা না পেলে আমাদের পথে বসতে হবে। এই ক্ষতি আমরা কীভাবে কাটাবো, বুঝতে পারছি না।

দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে আর্থিক সহায়তার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন দুর্গত এলাকার কৃষকরা।