দেশের বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, নেত্রকোণা ও সুনামগঞ্জে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে জামালপুরের মেলান্দহে গাছ চাপা পড়ে একই পরিবারের মা ও দুই মেয়ের মৃত্যু হয়েছে এবং সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে তিনজন মারা গেছেন।
জামালপুর
জেলার মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের পূর্বদাগি এলাকায় দিবাগত রাত তিনটার দিকে কালবৈশাখী ঝড়ে একটি বড়ো মেহগনি গাছ উপড়ে ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা খুকি বেগম (৯০) এবং তার দুই মেয়ে ফরিদা (৫০) ও ফাতেমা (৬০) গাছ চাপা পড়েন।
মেলান্দহ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গাছ সরিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। স্থানীয়রা জানান, হতদরিদ্র এই পরিবারটি মানুষের সাহায্যে চলতো।
সিরাজগঞ্জ
ভোরে জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার দুর্গানগর ইউনিয়নের বালসাবাড়ি গ্রামে ঝড়ে ঘরের ওপর রেইনট্রি গাছ ভেঙে পড়ে নাসিমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নাসিমা মৃত হবিবর রহমানের স্ত্রী।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন জানান, মহাসড়কের পাশে ঘর তুলে বসবাস করতেন নাসিমা। ভোরের ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সুনামগঞ্জ
জেলায় আলাদা স্থানে বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে সদর ও জামালগঞ্জ উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—সদর উপজেলার জমির উদ্দিন (৩৮), জমির হোসেন (৪০) ও জামালগঞ্জ উপজেলার আবু ছালেক (২৪)।
সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শফিকুর রহমান জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া শান্তিগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে আরও তিন কৃষক আহত হয়েছেন।
নেত্রকোণা
জেলার খালিয়াজুরীতে ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুল মোতালিব নামের এক মাছ শিকারীর মৃত্যু হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মোতালিবের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে।
খালিয়াজুরী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসির উদ্দিন জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
