সুন্দরবন থেকে পাচারের সময় চোরাশিকারীদের কবল থেকে দুটি জ্যান্ত চিত্রা হরিণ উদ্ধার করেছেন বনরক্ষীরা। সোমবার আলাদা দুটি অভিযানে হরিণ দুইটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে বিকেলে সেগুলোকে পুনরায় সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের জ্ঞানপাড়া বিশেষ ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার সুরজিত চৌধুরীর নেতৃত্বে বনরক্ষীদের একটি দল সোমবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নামে।
পাথরঘাটার চরদুয়ানী ইউনিয়নের গাববাড়ীয়া এলাকায় বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারীরা একটি হরিণকে হাজীবাড়ী মসজিদের কাছের একটি পুকুরে ফেলে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বেলা দুইটার দিকে কালিয়ারখাল এলাকায় দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয়। সেখানেও বনরক্ষীদের দেখে শিকারীরা হরিণটি ফেলে রেখে জঙ্গলে গা-ঢাকা দেয়। বনরক্ষীরা অক্ষত অবস্থায় হরিণ দুটিকে উদ্ধার করে জ্ঞানপাড়া টহল ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন।
উদ্ধার হরিণ দুটির মধ্যে একটির পায়ে সামান্য আঘাত থাকায় সেটিকে বন বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর হরিণ দুটি চলাচলের জন্য পুরোপুরি ফিট বলে নিশ্চিত করেন বন কর্মকর্তারা।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) শরীফুল ইসলাম জানান, চোরাশিকারীরা সুন্দরবনে ফাঁদ পেতে হরিণ দুটিকে ধরে লোকালয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি বলেন, সোমবার বেলা তিনটার দিকে উদ্ধার করা হরিণ দুটিকে শরণখোলা রেঞ্জের চরখালী বনাঞ্চলে নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করা হয়েছে।
সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগের এমন তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা। তবে শিকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
বন বিভাগ জানিয়েছে, চোরাশিকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।