ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু, কেজিতে খরচ ৭৮, দাবি ১৩৫ টাকা

দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা বৃষ্টি ও তীব্র সরবরাহ সঙ্কটে কাঁচা মরিচের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার পর অবশেষে বাজার দর নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে আমদানি শুরু হয়েছে। 

সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে ভারতের মহারাষ্ট্র ও নাসিক অঞ্চল থেকে কাঁচা মরিচের প্রথম চালান যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে এসে পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষে এসব মরিচ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারের উদ্দেশে পাঠাতে খালাস শুরু করা হয়।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত আটটার দিকে ভারতীয় একটি ট্রাকে ৯ হাজার ২০০ কেজি কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। এই চালানটি এনেছে ‘শিমু এন্টারপ্রাইজ’ এবং খালাসের দায়িত্বে রয়েছে ‘শিমু শিপিং লাইন্স’। 

এছাড়া মঙ্গলবার সকালে ‘রয়েল এন্টারপ্রাইজ’ নামে অপর একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে মহারাষ্ট্র থেকে ১৫ টন কাঁচা মরিচের আরও একটি চালান বন্দরে পৌঁছায়, যা গাড়িতে খালাস করা হচ্ছে।

বেনাপোল উপসহকারী সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ জানান, কাঁচা মরিচের বাজার স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রথম ধাপে ৬৯ জন আমদানিকারককে মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় অংশে আরও কয়েকটি মরিচবোঝাই ট্রাক অপেক্ষমাণ রয়েছে, যেগুলো পর্যায়ক্রমে বন্দরে প্রবেশ করবে। 

সরকারি হিসাবে খরচ ৭৮ টাকা, আমদানিকারকের দাবি ১৩৫

আমদানির নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতি টন কাঁচা মরিচের ঘোষিত মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা (কেজিপ্রতি প্রায় ২৪ টাকা)। বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি কেজি মরিচে শুল্ক নেওয়া হচ্ছে ৩৭ টাকা। বন্দর ব্যয়, পরিবহন, কাস্টমস ও শ্রমিক মজুরিসহ সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রতি কেজি মরিচ আমদানিতে মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৭৮ টাকা। 

তবে সরকারি এই হিসাবের সঙ্গে বাস্তব খরচের বড়ো পার্থক্যের কথা বলছেন আমদানিকারকেরা। আমদানিকারক শাহাজান অভিযোগ করে বলেন, কাস্টমসের জটিলতা, নানা খাতের অতিরিক্ত ব্যয় এবং পণ্য ছাড়করণে বিলম্বের কারণে সব মিলিয়ে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে তাদের প্রায় ১৩৫ টাকা খরচ পড়ে যাচ্ছে। ফলে লোকসানের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এদিকে সোমবার বেনাপোলের স্থানীয় খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আমদানিকারকদের দাবি করা ১৩৫ টাকা খরচের হিসাব ধরলেও খুচরা বাজারের ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬৫ টাকা। 

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত হাতবদল, অনিয়ন্ত্রিত পরিবহন খরচ এবং কার্যকর তদারকির অভাবেই এই বিশাল দামের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, শুধু আমদানির অনুমতি দিলে বাজারে সুফল আসবে না। বন্দর থেকে খালাস প্রক্রিয়া সহজ করা, কাস্টমসের শুল্ক ব্যবস্থা স্বচ্ছ করা এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা হলেই তবে কাঁচা মরিচের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।