সব জটিলতা পেরিয়ে অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদের নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন ঝিনাইদহের বহুল আলোচিত যুবক মিশন আচার্য।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগানপাড়ার ভাড়া বাসায় গিয়ে তার ও তার মা ময়না আচার্যের হাতে এই নিয়োগপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এর মাধ্যমে সরকারি শিক্ষক হওয়ার দীর্ঘ ও অনিশ্চিত অপেক্ষার অবসান ঘটল মিশন আচার্যের।
জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকার ভাড়াটে বাসিন্দা মিশন। তবে নিজস্ব কোনো ভিটেমাটি বা স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় পুলিশ ভেরিফিকেশনে আটকে যায় তার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন। চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেও বাদ পড়ার এই মানবিক ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাশেদ খানের।
পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন। তার হস্তক্ষেপে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মিশন আচার্যের নিয়োগ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়।
নিয়োগপত্র হস্তান্তরকালে এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় পিতৃহীন মিশনের ভাঙাচোরা ঘরের করুণ পরিস্থিতি এবং অন্যের বাড়িতে কাজ করে মা ময়না আচার্যের ছেলেকে পড়াশোনা করানোর সংগ্রামের স্মৃতি তুলে ধরেন রাশেদ খান। সে সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
এ ধরনের মানবিক কাজে সহায়তা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেন রাশেদ খান। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে এই অসহায় পরিবারের সার্বিক দায়িত্ব নেওয়া ও ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।