গরুর নামে দেদারসে বিকাচ্ছিলো ঘোড়ার মাংস!

গরু কিংবা খাসির সুস্বাদু মাংস ভেবে রেস্তোরাঁয় যা খাচ্ছেন, তা কি সত্যিই গরু? নাকি রাতের আঁধারে জবাই করা কোনো ঘোড়ার মাংস? এমন হাড়হিম করা প্রতারণার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এখন তীব্র ক্ষোভে ফুটছে সাতক্ষীরা ও খুলনার সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ।

টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা ক্যাটল ফার্মের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল ঘোড়া জবাইয়ের এই প্রকাশ্য কারবার। অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা, তবে সাজার বহর দেখে প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের মনে।

Screenshot 2026-10-24 184602
ঘটনার সূত্রপাত সাতক্ষীরার তালা ও খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী কাঞ্চনপুর গ্রামের ‘সাউথ বেঙ্গল ক্যাটল ফার্মে’। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোপন সূত্রে খবর পায়, ডুমুরিয়ার এই কথিত খামারটিতে পশুর পরিচর্যার বদলে রাতের আঁধারে গোপনে একের পর এক ঘোড়া জবাই করা হচ্ছে।

শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত চলা এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে দেখা মেলে রোমহর্ষক দৃশ্যের, প্যাকেটজাত করার জন্য প্রস্তুত রাখা তিনটি জবাই করা ঘোড়ার কাটা মাথা এবং প্রায় চার মণ কাঁচা মাংস! হাতেনাতে আটক করা হয় চক্রের মূল পান্ডা আনিসুর রহমান ওরফে পলাশ মাহমুদকে (৪০)।

তবে অভিযানের টের পেয়ে চম্পট দেয় তাঁর চার-পাঁচজন সহযোগী। ঘটনাস্থল থেকে অক্ষত অবস্থায় একটি জীবিত ঘোড়াও উদ্ধার করে আভিযানিক দল।

Screenshot 2026-10-24 184639
আটক পলাশ মাহমুদ স্বীকার করেছেন, গত ১ জুলাই খামারটি চালু করার পর থেকে লাইসেন্সের দোহাই দিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিচ্ছিলেন তিনি। ১০ কেজির সুদৃশ্য প্যাকেটে ভরপুর এসব মাংস ‘গরু’ কিংবা ‘খাসি’র ব্র্যান্ডিং লাগিয়ে পাঠানো হতো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নামীদামি রেস্তোরাঁয়।

শনিবার দুপুরে ডুমুরিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অভিযুক্ত পলাশকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠান।

Screenshot 2026-10-24 184659
জঘন্য এই মাংস মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়। তবে জনস্বাস্থ্যের ওপর এমন মারাত্মক হুমকি ও সুসংগঠিত জালিয়াতির ঘটনায় নিয়মিত ফৌজদারি মামলা না করে শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালতে সামান্য সাজা দিয়ে ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাদের মতে, নামমাত্র এই সাজায় মূল চক্রের বাকি আসামিরা অধরাই রয়ে গেল। প্রতারক চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে অবিলম্বে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ও কঠোর শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।