শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় আত্মরক্ষার্থে ধর্ষণচেষ্টাকারীকে দা দিয়ে কুপিয়ে থানায় থানায় গিয়ে মামলা দিয়েছেন ভুক্তভোগী এক নারী (৩৫)।
ওই নারীর হাতে জখম হওয়া ধর্ষণচেষ্টাকারী পুলিশ হেফাজতে হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর কোপানোর অভিযোগে নারী গিয়েছেন কারাগারে।
সোমবার সন্ধ্যায় একাত্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মনিরুল আলম ভূঁইয়া।
অভিযুক্তের নাম নুরুল আমীন (৫০)। তিনি উপজেলার চেল্লাখালী গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
আর দা দিয়ে কোপানোর অভিযোগে ভুক্তভোগী নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নুরুল আমীনের ছেলে ফরহাদ আমীন।
ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত শনিবার রাতে নালিতাবাড়ীর সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটে। তিন সন্তান নিয়ে বাড়িতেই থাকেন ওই নারী। ঢাকায় রিকশা চালান স্বামী।
পুলিশ জানিয়েছে, চেল্লাখালী গ্রামের নুরুল আমীন কয়েকদিন ধরেই ওই নারীকে শারীরিকভাবে মেলামেশার প্রস্তাব দিচ্ছিলেন এবং বিরক্ত করে আসছিলেন। ঘটনার দিন রাতে নুরুল ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে তাকে জোর করে জাপটে ধরে। এ সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী ওই নারী নুরুলের শরীরে দা নিয়ে কোপ মারে।
আহত অবস্থায় নুরুল আমীন পালিয়ে গিয়ে শেরপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হন।
ওই রাতেই থানায় গিয়ে নিজেই বাদী হয়ে নুরুল আমীনকে আসামি করে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেন ওই নারী। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে শেরপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরুল আমীনকে আটক করে।
এদিকে পরের দিন রোববার সকালে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত নুরুল আমীনের ছেলে ফরহাদ আমীন বাদী হয়ে তার বাবাকে দা দিয়ে কোপানোর অভিযোগ ওই নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার পর ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি মনিরুল আলম ভূঁইয়া।