শেরপুরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পাঁচ মৃত্যুর ঘটনায় দুই মামলা

শেরপুরে শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গাড়ি চাপা ও গুলিতে পাঁচ ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় সদর থানায় আলাদা দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাগুলোয় ২৫ জনকে নামে এবং প্রায় এক হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (১২ আগস্ট) নিহতদের স্বজনরা বাদি হয়ে সদর থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মামলার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

গুলিতে শিক্ষার্থী সবুজ হত্যায় মামলাটি দায়ের করেন তার বৈমাত্রেয় ভাই সাদ্দাম হোসেন। আর গাড়ি চাপায় নিহত শিক্ষার্থী মাহবুব আলম ও সৌরভ হত্যা মামলার বাদি হয়েছেন মাহবুবের মা মাফুজা খাতুন।

সবুজ হত্যা মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও শেরপুর-১ আসনের সাবেক এমপি  ছানুয়ার হোসেন ছানু, শেরপুর-৩ আসনের সাবেক এমপি এডিএম শহিদুল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবীর রুমানসহ ২৫ জনকে নামে এবং অজ্ঞাত আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

আর গাড়ি চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় অজ্ঞাত ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করেছেন মাফুজা খাতুন।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় নাই। 

চার আগস্ট শেরপুর শহরের থানা মোড় হয়ে খরমপুর ও তিনানী বাজার এলাকায় শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গাড়ি চাপা ও গুলিতে নিহত হন পাঁচ জন। 

তারা হলেন- আহ্‌ছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শহরের বটতলা এলাকার তুষার (২৪), আইটি উদ্যোক্তা সদর উপজেলার চৈতনখিলা এলাকার মাহবুব আলম (২৫), ঝিনাইগাতী উপজেলার পাইকুড়া এলাকার সৌরভ (২২), শ্রীবরদী উপজেলার রূপারপাড়া এলাকার সবুজ হাসান (২০) ও জেলা সদরের ভাতশালা এলাকার মিম আক্তার (১৮)। তাদের মধ্যে প্রশাসনের গাড়ি চাপায় দুই জন ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিন জন মারা যান।