বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে শেরপুর জেলা কারাগারে হামলার ঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার জনকে, তবে সবাই অজ্ঞাত।
বৃহস্পতিবার জেল সুপার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর খান মামলার বিষয়টি জানান। এর আগে, ১১ আগস্ট জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার লিপি রানি সাহা বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
কারা সূত্র জানায়, পাঁচ আগস্ট বিকেলে কয়েক হাজার মানুষ দেশি অস্ত্র নিয়ে কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা বন্দিদের ওয়ার্ড ভেঙে তছনছ ও আগুন ধরিয়ে দেয়। এতো সংখ্যক মানুষের হামলার মুখে কারারক্ষীরা অসহায় হয়ে পড়েন। এ সময় কারাগারের ৫১৮ জন বন্দি পালিয়ে যায়। হামলাকারীরা কারাগারের ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, চায়নিজ রাইফেলের ৮৬৪টি গুলি, শটগানের ৩৩৬টি গুলি ও কারাবন্দিদের জন্য মজুদ রাখা খাদ্যসামগ্রী, টাকা লুট করে। সেই সঙ্গে কারাগারের প্রশাসনিক ভবনসহ মূল্যবান রেকর্ডপত্র, গাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
শেরপুর গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, কারা কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সংস্কারের প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এক কোটি ২০ লাখ টাকা খরচ হতে পারে। এর মধ্যে কিছু কাজ দ্রুত করে দেওয়া হবে। আবার কিছু কাজ করতে সময় লাগবে। কয়েদিদের থাকার সেলগুলো আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে প্রশাসনিক ভবন, কারারক্ষীদের ব্যারাক, কারাধ্যক্ষের বাসভবন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলোয় অন্তত ১৫ দিন সময় লাগবে।
জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর খান বলেন, কারাগার সংস্কার করতে এক মাসের মতো সময় লাগার কথা জানিয়েছে গণপূর্ত। ওই ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন কোটি টাকা। লুট হওয়া ৯টি অস্ত্রের মধ্যে পাঁচটি রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা এখন সেনাবাহিনীর হেফাজতে। বেশ কিছু বন্দি ইতিমধ্যে আত্মসমর্পণের জন্য যোগাযোগ করছেন। তবে কারাগারে থাকা, খাওয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় তাদের অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।
রান্নাঘর থেকে ১৪ বাচ্চাসহ মা গোখরা উদ্ধার