শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, ঘরে ফিরছে মানুষ

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হয়েছে। জেলার সবগুলো নদ-নদী পানি কমেছে এবং অব্যাহত রয়েছে। নদীর পানি এখন বিপৎসীমার অনেক নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে, পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, দশানি ও মৃগী নদীতে। বাড়লেও এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে।

জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় দুর্ভোগের মধ্যেই ঘরে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। যারা এই বন্যায় অন্যের বাড়িতে বা আশ্রয়ণ প্রকল্পে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তারা এখন ধীরে ধীরে নিজেদের বাড়ি-ঘরে ফিরছেন।

জেলার শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা থেকে পানি নামলেও এখনো নালিতাবাড়ী, শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু কিছু জায়গায় পানি রয়েছে। ভারী বৃষ্টি না থাকায় এসব জায়গা থেকেও পানি নামছে।

তবে, এখনো কিছু কিছু এলাকায় মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তাদের খাদ্য সংকটও রয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, রেডক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন, জেলার বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সবগুলো নদীর পানি বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। ত্রাণ কার্যক্রম চলমান আছে।

sherpur-flood1

বন্যায় এখন পর্যন্ত শেরপুর জেলায় মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। নিখোঁজ রয়েছেন এক নারী।

নিহতরা হলেন- নালিতাবাড়ীর খলিসাকুড়া এলাকার খলিলুর রহমান (৬৫), আন্ধারুপাড়া এলাকার ইদ্রিস আলী (৬৩), নিশ্চিন্তপুর কুতুবাকুড়া গ্রামের দুই ভাই আলম (১৭) ও হাতেম (৩০), বাঘবেড় বালুরচরের ওমেজা বেওয়া (৫৫), চিকনা এলাকার উজ্জল (৫০), ঘোনাপাড়া এলাকার জিমি আক্তার (৮), নকলার গজারিয়া এলাকার আ. রাজ্জাক (৫০), টালকি ইউনিয়নের রাহিম (৫), শেরপুর সদরের চান্দেরনগর চক্কার ব্রিজ এলাকার কৃষক তমির উদ্দিন (৫৬)।