এই দেশের মালিক জনগণ। সেই মালিক সরকারি অফিসে গিয়ে সেবা পাবেনা, তা হতে পারেনা। এমনকি হয়রানির শিকার হবেন, তাও মেনে নেওয়া যায় না। প্রতিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জনগণের সেবক। কিন্তু জেগে ঘুমালে সেই ঘুম ভাঙানো কঠিন।
রোববার নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক।
তিনি বলেন, চাকরীজীবীরা যদি যে যার স্থান থেকে দুর্নীতিকে না বলি, যদি প্রতিরোধ না করি তাহলে এই ধরণের শত শত দুদকের পক্ষে দেশ থেকে দুর্নীতি নামের ভাইরাস দূর করা সম্ভব নয়। তাই অসহায় মানুষের জন্য ভালো কিছু করা, সর্বোপরি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ্য ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আজ থেকেই দুর্নীতি বিরুদ্ধে সবাইকে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
‘রুখবো দুর্নীতি, গড়বো দেশ, হবে সোনার বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে এবং ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার আওয়াজ তুলুন’ স্লোগানে নওগাঁয় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো দুদকের গণশুনানি।
দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয় নওগাঁর আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসন ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহযোগিতায় গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক গোলাম মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- দুদক মহাপরিচালক (তদন্ত) আকতার হোসেন, রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক কামরুল আহসান, নওগাঁর পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রাশিদুল হক, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় নওগাঁর উপপরিচালক মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডা. হাবিবুর রহমানসহ অন্যরা।
গণশুনানিতে একটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানি ও জেলার ১৫টি সরকারি দপ্তর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও হয়রানির বিষয়ে সেবা প্রার্থীরা সরাসরি উপস্থাপন করলে ৩৯টি অভিযোগে মুখোমুখি হয়ে সেগুলো সমাধাণ করে দেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
জেলা সদরে অবস্থিত যে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত দপ্তর, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সেবা পেতে ঘুষ, দুর্নীতি বা হয়রানীর শিকার হয়েছে এমন অভিযোগের অনেকগুলো শুনানি শেষে তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয়।
এছাড়া অন্য অভিযোগ অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান করে তার প্রতিবেদন কমিশন বরাবর পাঠানোর নির্দেশনা প্রদান করেন প্রধান অতিথি।