সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে সৎখালা ও তার দুই ছেলেকে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে আরো ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ঘটনার দেড় বছরের মধ্যে রোববার সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ আদেশ দেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আইয়ুব আলী (২৯) উল্লাপাড়া উপজেলার নন্দিগাতি গ্রামের মৃত মোকছেদ মোল্লার ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে আইয়ুব আলী তার সৎখালা রওশন আরার বাড়িতে যায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া তাঁত শ্রমিক আইয়ুব আলী রওশন আরার কাছে টাকা ধার চায়।
কিন্তু টাকা ধার না পেয়ে আইয়ুব গভীর রাতে রওশন আরার ঘরে থাকা চারটি ট্রাংক খুলে টাকা চুরির চেষ্টা করে। তখন রওশন আরা জেগে উঠলে তার বুকে শিল পাথর দিয়ে আঘাত এবং গলা টিপে হত্যা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, মায়ের হত্যার সময় রওশন আরার পাশে ঘুমিয়ে থাকা তার তিন বছরের শিশুসন্তান মাহিন কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে গলা টিপে হত্যা করে করে। তখন রওশনের আরেক সন্তান জিহাদ জেগে উঠলে তাকেও গলা টিপে হত্যা করে ঘরের দরজা লাগিয়ে পালিয়ে যায় আইয়ুব।
ঘটনার তিনদিন পর বিকেলে ঘর থেকে তাদের তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন রাতেই নিহতের ভাই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে বেলকুচি থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও বেলকুচি থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গত দুই অক্টোবর রাতে উল্লাপাড়ার নন্দিগাতি গ্রাম থেকে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা আইয়ুব আলীকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে আলামত উদ্ধার করা হয়।
আইয়ুব আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত শেষে আইয়ুব আলীকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
মোট ১৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর আসামির উপস্থিতিতে রোববার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আইয়ুবকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।