বগুড়ার শাজাহানপুরে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে এক নারী ও তার এক বছরের ছেলের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের হত্যার অভিযোগে শিশুটির বাবাকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার রাতের কোনো একসময় বনানী শুভেচ্ছা আবাসিক হোটেলে তাদের হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ধারণা।
নিহত দুইজন হলেন মা আশামণি (২০) ও তার ছেলে আবদুল্লাহ আল রাফি (১)। আশামনি বগুড়ার নারুলী এলাকার আসাদুল ইসলামের মেয়ে। তাদের হত্যার অভিযোগে আটক আজিজুল হক (২৩) বগুড়ার ধুনটের হামিদুর রহমানের ছেলে।
আশামনির বাবা আসাদুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন বছর আগে আজিজুলের সাথে বিয়ে হয় আশামণির। তাদের সংসারে এক বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে। সন্তান হওয়ার পর থেকেই আশা তার বাবার বাড়ি নারুলীতে থাকেন। এর মধ্যে দুই মাসের ছুটিতে বাড়ি আসেন আজিজুল। ছুটি শেষে শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে যাওয়ার কথা তার। এর আগে, সন্ধ্যায় মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে বের হয় আজিজুল। এরপর তার বউ ও ছেলে হারিয়ে গেছে বলে তাকে সাথে নিয়ে বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেন।
শাজাহানপুর থানার পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় আজিজুল তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে হোটেলে আসেন। রাত্রিযাপনের জন্য তারা একটি কক্ষ ভাড়া নেন। নিহত আশামনির স্বামীর বাড়ি বগুড়ার ধুনট উপজেলায়। বাবার বাড়ি বগুড়ার নারুলী এলাকায়। তারা তমা ও মিরাজ পরিচয়ে হোটেলে ওঠেন। বাড়ি উল্লেখ করা হয় রংপুরের পীরগঞ্জ।
হোটেলের ম্যানেজার রবিউল ইসলাম জানান, সকালে হোটেলে এসে আজিজুল জানান তিনি হোটেলের রুম ছেড়ে দিবেন। এই সময় ম্যানেজার রুম বুঝিয়ে দিতে বললে তালবাহানা শুরু করেন আজিজুল। এরপর চাপাচাপির এক পর্যায়ে রুমে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার কথা বলেন আজিজুল। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ হত্যার ঘটনা পুলিশকে জানায়।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সরফাত ইসলাম বলেন, স্ত্রী-সন্তানকে গলাকেটে হত্যার পর আজিজুল প্রথমে হোটেল কক্ষ ত্যাগ করেছিলেন। পরে কক্ষে ফিরে নাটক সাজানোর চেষ্টা করলে হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। এরপর তারা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আজিজুলকে আটক করে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী জানান, আজিজুল তার স্ত্রী ও সন্তানকে হোটেল কক্ষে শনিবার রাতের বেলায় কোনো একসময় পরিকল্পতভাবে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। সে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।