ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে কোটা সংস্কারের দাবিতে রেল ও সড়ক পথ অবরোধ করে আন্দোলন করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে ট্রেন চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার বেলা বারোটার দিকে মহানগরীর মেহেরচণ্ডী রেল ক্রসিংয়ে জড়ো হয়ে রেললাইনে ওপর বসে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
এসময় তারা কোটা বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের প্যারিস রোডে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা।
পরে তারা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এসময় চারুকলার সামনে রেল লাইনে গাছের গুঁড়ি ফেলেন তারা। পরে তারা মেহেরচণ্ডী রেল ক্রসিং এ অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।
রেললাইন অবরোধের ফলে ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন হরিয়ান স্টেশনে থামিয়ে রাখা হয়েছে।
আর খুলনা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন সরদহ স্টেশনে থামিয়ে রাখা হয়েছে।
এর আগে কয়েকদিন ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করলেও রোববার সকাল থেকেই সারাদেশে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ করার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনে নামে কোটাবিরোধীরা।
রোববার দুপুরের পর থেকেই সড়ক অবরোধের খবর আসতে থাকে। এতে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট দেখায়। চরম ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ।
সারাদিন আন্দোলন চালিয়ে রাতে অবরোধ থেকে সরে যান বিক্ষোভকারীরা। তবে সোমবার বেলা সাড়ে তিনটা থেকে আবার অবরোধের ঘোষণা দেন তারা। তবে বিভিন্ন জায়গায় সকাল থেকেই আন্দোলন শুরু করেছেন অনেকেই।
এদিকে চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীরা যে অবরোধ-ধর্মঘটের আন্দোলন চালাচ্ছে, সেখানে বিএনপির অংশগ্রহণ আছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
আর উচ্চ আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ পরিহার করা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।
কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে ২০১৮ সালের পরিপত্র জারি করে সরকার। গত ৫ জুন সেই পরিপত্রের আংশিক আংশিক অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট।
তবে এ আদেশ না মেনে ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত কয়েকদিন ধরে শাহবাগ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের নাম ঘোষণা করছেন আন্দোলনকারীরা। শনিবার শাহবাগে 'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা।
২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রচলিত ছিলো। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের জন্য ৫ শতাংশ আর প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিলো।
একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন হয়। কোটা ব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। পরে ওই বছরের ৪ অক্টোবর কোটা বাতিল বিষয়ক পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এ পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলামসহ সাত শিক্ষার্থী। এর প্রেক্ষিতে জারিকৃত পরিপত্রটিকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে হাইকোর্ট।