চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীরা যে অবরোধ-ধর্মঘটের আন্দোলন চালাচ্ছে, সেখানে বিএনপির অংশগ্রহণ আছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
আর উচ্চ আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ পরিহার করা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।
সোমবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ও সমমনারা কোটা বাতিলের আন্দোলন সমর্থন করেছে৷ অর্থাৎ তাদের অংশগ্রহণ আছে।
আর এটা কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ কিনা, আন্দোলনের গতিধারাই তা পরিষ্কার করবে মন্তব্য করেন কাদের। বলেন, এই আন্দোলন কোন দিকে যাচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করছে আওয়ামী লীগ।

এর আগে কয়েকদিন ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করলেও রোববার সকাল থেকেই সারাদেশে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ করার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনে নামে কোটাবিরোধীরা।
দুপুরের পর থেকেই সড়ক অবরোধের খবর আসতে থাকে। এতে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট দেখায়। চরম ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার কোটা বাতিলের বিষয়ে আন্তরিক বলেই আইনজীবী নিয়োগ করেছে। বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়।
উচ্চ আদালতের রায়ের আগে কোনো ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি এবং রাস্তাঘাট বন্ধ করার কর্মসূচি পরিহার করা উচিত বলেও জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এর আগে যখন কোটাবিরোধী আন্দোলন হয়, তখন সেই আন্দোলনে থাকা প্রথম সারির ৩১ জনই বিসিএসে টেকেনি।
কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে ২০১৮ সালের পরিপত্র জারি করে সরকার। গত ৫ জুন সেই পরিপত্রের আংশিক আংশিক অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট।

তবে এ আদেশ না মেনে ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত কয়েকদিন ধরে শাহবাগ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের নাম ঘোষণা করছেন আন্দোলনকারীরা। শনিবার শাহবাগে 'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা।
২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রচলিত ছিলো। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের জন্য ৫ শতাংশ আর প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত ছিলো।
একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন হয়। কোটা ব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। পরে ওই বছরের ৪ অক্টোবর কোটা বাতিল বিষয়ক পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এ পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলামসহ সাত শিক্ষার্থী। এর প্রেক্ষিতে জারিকৃত পরিপত্রটিকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে হাইকোর্ট।
কোটাবিরোধী আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই: প্রধানমন্ত্রী
কোটাবিরোধীদের অবরোধে বিভিন্নস্থানে যানজট