ঈশ্বরদীতে ডাবল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন, মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদীকে হত্যার পর নাতনীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের আপন ভাগনে মো. শরিফুল ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) পাবনা ডিবি পুলিশ ও ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শরিফুলকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার শরিফুলের বাড়ি ঈশ্বরদীর কালিকাপুর গ্রামে। 

নিহতরা হলেন সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তার সেতু (১৫)। সেতু ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের জয়নাল খানের মেয়ে এবং স্থানীয় কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলো।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে বাড়ির গেটের সামনে থেকে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ এবং পাশের একটি গমখেত থেকে সেতুর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তারা নিজেদের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন।

বিকেলে পাবনা জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ তার কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ নিশ্চিত হয় যে এই হত্যাকাণ্ডে সুফিয়া খাতুনের আপন ভাগনে শরিফুল জড়িত। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে।

পুলিশ জানায়, যাতায়াতের সুবাদে নাতনী সেতুর ওপর শরিফুলের কুদৃষ্টি ছিলো। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে শরিফুল কৌশলে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। দাদী সুফিয়া খাতুন বিষয়টি টের পেয়ে তাকে চলে যেতে বললে শরিফুল ক্ষিপ্ত হয়ে কাঠের বাটাম দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই সুফিয়া খাতুন মারা যান।

এরপর শরিফুল ঘরের ভেতর গিয়ে সেতুকে হাতুড়ি ও বাঁশের বাটাম দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে অচেতন করে ফেলেন। পরে অচেতন অবস্থায় সেতুকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি গমখেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি, একটি বাঁশের কাঠি, একটি কাঠের বাটাম এবং আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করেছে।

এই ঘটনায় নিহিত সেতুর ফুফু মোসাম্মৎ মর্জিনা খাতুন বাদি হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামিকে বিকেলেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।