কাগজে ৩০ শয্যা, বাস্তবে ২০, চিকিৎসক সঙ্কট তীব্র

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া (সদর) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কাগজে-কলমে ৩০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাস্তবে এখনও তা ২০ শয্যার। দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সমস্যা ও তীব্র জনবল সঙ্কটে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় রোগী ও তাদের স্বজনরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে এই হাসপাতালটিকে ২০ শয্যা থেকে ৩০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে দীর্ঘ ৯ বছরেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ না হওয়ায় বাড়তি ১০টি শয্যা স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতিদিনের অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালটিতে সেবার মান তলানিতে ঠেকবার অন্যতম কারণ তীব্র চিকিৎসক সঙ্কট। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এখানে ১৪ জন চিকিৎসকের পদ অনুমোদিত থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। ফলে বহির্বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনাসহ জরুরি রোগীর চাপ থাকে। কিন্তু পর্যাপ্ত শয্যা ও জায়গা না থাকায় অনেক রোগীকে মেঝে বা বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগী আব্দুল রশিদ জানান, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হলেও বেড পাননি তিনি। বাধ্য হয়ে বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টির সময় বারান্দায় পানি ঢুকে পড়ায় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। আরেক রোগী হামিদুর রহমান অভিযোগ করেন, কাগজে ৩০ শয্যার কথা থাকলেও বাস্তবে ২২টির মতো বেড রয়েছে। জায়গা ও লোকবল সঙ্কটে ঠিকমতো সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।

হাসপাতালের নার্স ইনচার্জ পলিয়া খাতুন বলেন, প্রতিদিন গড়ে কয়েকশ রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন, যা ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। ৩০টি বেড বসানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। সম্প্রতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও সাধারণ জ্বর-সর্দির প্রকোপ বাড়ায় রোগীর চাপ আরও বেড়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. রোমানা আফরোজ লুবনা বলেন, শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হলেও অবকাঠামো না থাকায় আমরা সেগুলো স্থাপন করতে পারছি না। জনবল সঙ্কটের কারণেও সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে সেবার মান বাড়ানো সম্ভব।