দাম বেশি মিললেও আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা

পঞ্চগড়ে মণপ্রতি আখের দাম বাড়লেও চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন আখ চাষিরা। তিন বছর ধরে পঞ্চগড়ের একমাত্র সরকারি সুগারমিল বন্ধ থাকায় জেলায় আখের চাষ কমেছে প্রায় পাঁচগুণ।

আখ বিক্রিতে নানা ভোগান্তির কারণে দাম বেশি মিললেও কমেছে আখের চাষ। সরকারি কিংবা বেসরকারি যে কোনোভাবে সুগারমিল চালুর দাবি তুলেছেন জনপ্রতিনিধিরা। 

২০২০ সালে বন্ধ হয়ে যাবার আগে আখ চাষিদের কাছ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন আখ নিয়েছিল পঞ্চগড় সুগারমিল। তখন জেলায় আখ চাষ হয়েছিল প্রায় পাঁচ হাজার একর জমিতে, আর আখের দর ছিলো ১৮০ টাকা মণ।

তিন বছরে আখের মণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০ টাকায়। কিন্তু আখ দেবার জায়গা না থাকায় ও অন্য জেলায় আখ দেবার ভোগান্তিতে আখ চাষে আগ্রহ হারিয়েছে কৃষক। 

তিন বছর ধরে বন্ধ থাকায় জরাজীর্ণ মিল ভরেছে ঝোপজঙ্গলে। নষ্ট হওয়ার পথে শত কোটি টাকার মিলের সম্পদ। কাজ হারিয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটছে শ্রমিকের। 

পঞ্চগড় সুগারমিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বুলেট বলেন, পঞ্চগড় সুগারমিল বন্ধ হওয়াতে আমরা শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছি। আখ চাষিরা সরে দাঁড়িয়েছে।  

ফলে মিলটি সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে আবারও চালুর দাবি তুলেছেন জনপ্রতিনিধিরা। 

পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সরকারি শিল্প-কলকারখানা বেসরকারি করা হচ্ছে। সেটাও যদি করা হয়, যারা কৃষক তারা লাভবান হবেন।

মিল কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী মিলের চাহিদা পূরণ হলে মিলটি পুনরায় চালু হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

পঞ্চগড় সুগার মিলের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, যদি প্রায় তিন হাজার একরে প্লানটেশন করা সম্ভব হয়, তাহলে মিলটি আবার সরকারিভাবে চালু করা সম্ভব হবে। 

চলতি মৌসুমে জেলায় মাত্র ৫০০ একর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে মাত্র ২০ হাজার মেট্রিক টন আখ।