দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় বাঁশ ফুলের দানা থেকে ভাত রান্না হচ্ছে। একই সঙ্গে রান্না হয়েছে পায়েস, তৈরি হচ্ছে আটা। ব্যাপারটি বেশ পুরনো হলেও সম্প্রতি জানাজানি হওয়া এমন খবরে ওই এলাকায় তোলপাড়া সৃষ্টি হয়েছে। দলে দলে মানুষ ভিড় করছে আসলে কী ঘটছে দেখতে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, এগুলো চাল না হলেও রয়েছে ঔষুধিগুণ।
সরেজমিন, ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের লালদিঘী (আদিবাসী পাড়া) গ্রামে দীর্ঘদিন থেকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাস। এই গ্রামের আশেপাশে প্রচুর বাঁশ বাগান কাটা তার দিয়ে ঘেরা। ওই বাঁশগুলো বেড়া বাঁশ নামে পরিচিত।
স্থানীয়রা জাননা, এসব বাঁশে দীর্ঘ দিন পর (১২ থেকে ৪০ বছর) পর ফুল আসে। সেসব ফুলে ধানের মতো বীজ থাকে। গ্রামটির আদিবাসী সম্প্রদায় বংশ পরম্পরায় সেই বীজ সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় এক ধরনের দানা বের করে, যা দেখতে অবিকল চালের মতো। সেসব দানা দিয়ে রান্না হচ্ছে ভাত, পায়েসসহ আটা, ছাতু।
সম্প্রদায়টির কয়েকজন জানান, যখন বেড়া বাঁশের মারা যাবার সময় হয় তখন ফুল আসে। ১২ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একবার ফুল আসে। তারা এসব বাঁশের ফুলের দানা দিয়ে নিয়মিত খাবার ছাড়াও বিয়ে পার্বণসহ বিভিন্ন আয়োজনে নানা উপকরণ তৈরি করেন।
তারা জানান, দিন দিন বেড়া বাঁশের উৎপাদন করে যাওয়ায় এর ফুলেরও উৎপাদন কমে গেছে। উৎপাদন বাড়ানো গেলে ঐতিহ্যবাহী ও ব্যতিক্রমী এ খাদ্য পণ্যের ব্যবহার বাড়বে।
স্থানীয় যোশেফ মুর্মু ও মাইকো বাস্কে বলেন, আমরা বাপ-দাদার সময় থেকে এ চাল খেয়ে আসছি। বাঁশের ফুল হলে সংগ্রহ করি। এরপর বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় চাল, আটা করে খাই। অতীতে বিয়েসহ বিভিন্ন আয়োজনে এ বাঁশের ফুলের চাল ব্যবহার করা হতো।
ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, এটি ঔষধি গুণাগুণ সম্পন্ন খাবার। এ বিষয়ে গবেষণার পর এর ব্যাপক ব্যবহার সম্পর্কে জানা যাবে।