গাইবান্ধায় মধ্যমেয়াদী বন্যা, দুর্ভোগে দুই লক্ষাধিক মানুষ

গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি কিছুটা কমলেও তা বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ফলে অপরিবর্তিত রয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও ঘাঘট নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। 

তবে নদ-নদীর পানি ধীর গতিতে নামতে শুরু করলেও দুর্ভোগে পোহাচ্ছে জেলার চারটি উপজেলার ২৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার পরিবার। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, আগামী সপ্তাহে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। 

পাউবো জানিয়েছে, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানি আর অবিরাম বৃষ্টিতে গত তিন জুলাই থেকে গাইবান্ধার নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ফলে গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটার ২৭টি ইউনিয়নের প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি যেভাবে বেড়েছিল তার তুলনায় কমার গতি খুবই ধীর। 

এদিকে সদর উপজেলার কামারজানি, ঘাগোয়া, ফুলছড়ি উপজেলার এরান্ডাবাড়ি, ফজলুপুর, কঞ্চিপাড়া ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া, তারাপুর, হরিপুর ইউনিয়নসহ ২৭টি ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, ফসলের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষের ঘরবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমর পানি। অনেকেই উঁচু স্থান ও বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। 

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৮১টি  স্থায়ী ও অস্থায়ী ৮০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হলেও দুর্গত বেশিরভাগ মানুষ ঘরবাড়ি ফেলে আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে চাচ্ছে না। তারা ঘরে মাচা করে গবাদি পশুর সঙ্গে গাদাগাদি করে থাকছেন। 

বন্যায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন হাজার ৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ১৬৫ মেট্রিক টন চাল, সাঘাটা উপজেলার ২০ হাজার পরিবারকে পাঁচ হাজার করে মোট ১০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এনজিওগুলোর পক্ষ থেকেও দুর্গম চরাঞ্চলের সাত ইউনিয়নের এক হাজার ৯০০ নারীর মধ্যে নারীর মর্যাদা সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে শাড়ি, মশারি, সাবান, বালতি ও স্যানিটারি ন্যাপকিন।

শুকনো জায়গা না থাকায় দুর্গতরা রান্না করতে পারছেন না। ফলে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সঙ্কটে পড়েছেন তারা।  এছাড়া নারীদের টয়লেট ব্যবস্থা নিয়ে তারা বিপাকে রয়েছেন।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, গাইবান্ধার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে মধ্যমেয়াদী বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী সপ্তাহে পানি হ্রাস পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।