কুড়িগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতির এখনও কোনো উন্নতি হয়নি। বিপদসীমার ওপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি।
সোমবার সকালে ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে ধরলার পানি ব্রিজ পয়েন্টে ৩১ সেন্টিমিটার বেড়ে তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ও দুধকুমারের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে তিস্তার পানি বেড়ে জেলার ৪৩টি ইউনিয়নে প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জেলায় পানিবন্দি রয়েছেন প্রায় দুই লাখ মানুষ। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও শুকনো খাবারের সঙ্কটে পড়েছেন চরাঞ্চলের বন্যা কবলিত মানুষগুলো। পাশাপাশি গবাদি পশুর খাদ্য সঙ্কট নিয়েও বিপাকে পড়েছেন তারা।
বন্যা কবলিত মানুষগুলো টানা সাত দিন পানিতে থাকায় হাত-পায়ের ঘা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া সর্দি-জ্বর, ডারিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।
তাদের সেবায় ৮৩টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। ইতিমধ্যে ২০ হাজার খাবার স্যালাইন, ২০ হাজার পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ বন্যা দুর্গতদের দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা সেবা দ্রুত সময়ে নিশ্চিত করতে খোলা হয়েছে একটি কনট্রোল রুমও।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সামছুল আলম জানান, বন্যার পানি ওঠায় ১২১টি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদরাসায় পাঠদান সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নবেজ উদ্দিন জানান, ৯ উপজেলায় বন্যায় প্লাবিত বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৫৩টি। এর মধ্যে পাঠদান বন্ধ রয়েছে ২২০টির।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সরকার জানান, বন্যা মোকাবেলায় ৩১৭ মেট্রিক টন চাল, ২১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ও ১৯ হাজার ৩০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত পাঁচ