অটোরিকশা চুরির সময় ধরা, পরে কেঁচো খুঁড়তে সাপ

পঞ্চগড়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চুরি করতে গিয়ে এক যুবক ধরা পড়েছেন। পরে তার মোবাইল ফোন ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি একজন ধর্ষক ও ভয়ঙ্কর খুনি। সেই সঙ্গে রহস্য উন্মোচন হয়েছে এক ক্ষত বিক্ষত নারীর মৃত্যুর কারণও।

আটক যুবকের নাম রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৩)। তিনি জেলার বোদা উপজেলার মাঝগ্রামের বাসিন্দা।

গত আট মার্চ দিবাগত রাতে আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর এলাকার তাহিরুল ইসলামের বাড়িতে ইজিবাইক চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েন তিনি। এ সময় স্থানীয়রা তাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়। তার আগে স্থানীয়রা তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে এক নারীকে হত্যার এসব তথ্য জানাতে পারে।

সোমবার (১০ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী। 

পুলিশ সুপার জানান, গত ১৪ জানুয়ারি জেলার আটোয়ারী উপজেলার কিসমত এলাকায় রেললাইনে এক অজ্ঞাত নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। হত্যাকাণ্ড হলেও এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারছিলো না পুলিশ। থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়। পরে ঠাকুরগাঁয়ের ভুল্লি এলাকার একটি পরিবার তাদের মেয়ে মনে করে মরদেহ গ্রহণ এবং দাফন করেন।

রিফাতের বরাত দিয়ে এসপি জানান, ওই নারীর সঙ্গে ট্রেনে পরিচয় হয়। এরপর তাকে ধর্ষণ ও এক পর্যায়ে মাথায় ইট দিয়ে আহত করা হয়। এখানেই শেষ নয়, এর পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই নারীর যৌনাঙ্গ, স্তনসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ফেলে রাখা হয় রেললাইনে। 

পুলিশ সুপার জানান, ওই হত্যাকাণ্ডের পর রিফাত একের পর অপরাধ চালিয়ে যেতে থাকে। আট মার্চ ইজিবাইক চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে। এ সময় তার মোবাইলে একটি নারীকে বেঁধে রাখার ভিডিও দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারীকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন তিনি। 

তার বিরুদ্ধে আটোয়ারী থানায় ধর্ষণের পর হত্যা ও চুরির দুটি মামলা হয়েছে। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে রিফাত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান এসপি মিজানুর।