নীলফামারীতে তিস্তা সেচ ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে প্রায় ৯০ একর জমির রোপা আমন ক্ষেত পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ খবর স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কানে গেলে স্রোত বেশি থাকায় ভাঙা অংশ মেরামত করা যাচ্ছে না। কৃষি অফিসের বরাত দিয়ে পাউবো বলছে, চার-পাঁচ দিন আমনের চারা পানির নিচে থাকলে ক্ষতি হবে না। একই সঙ্গে স্রোতের তোড় কম গেলে সঙ্গে সঙ্গে বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশ মেরামত করা হবে।
রোববার (২০ জুলাই) সকালে জেলা সদরের খানিয়ালখাতার খালুয়ার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানান, দিনাজপুর সেচ ক্যানেলের একদিকে ভাঙন দেখা দেয়। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভাঙন। বিকেল পর্যন্ত ক্যানেলটির অন্তত ৪০ ফুট বিধ্বস্ত হয়।
ওই এলাকার কৃষক আমিনুর রহমান জানান, ক্যানেলের বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ইঁদুরের গর্ত রয়েছে। আমরা একাধিকবার ক্যানেল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা পাউবোর কর্মকর্তাদের মেরামতের জন্য জানিয়েছি। কিন্তু তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি।
তিনি বলেন, সকালে বাঁধে থাকা ইঁদুরের গর্ত পানি ঢুকে বাঁধ ভেঙে আমার দুই একরসহ আরও অনেক কৃষকের রোপা আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।
আরেক কৃষক ইয়াসিন আলী জানান, খবর পেয়ে এসে দেখি আমার ১০ বিঘা রোপা আমন ক্ষেতে পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পরে আমরা পাউবোতে খবর দিয়ে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করি। কিন্তু পানি ও স্রোত বেশি থাকায় তারা মেরামতে ব্যর্থ হয়।
নীলফামারী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান, প্রায় ৪১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ক্যানেলসহ বাঁধ সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। সকালে হঠাৎ বাঁধে থাকা ইঁদুরের গর্ত পানি প্রবেশ করে প্রায় ৪০ মিটার অংশ বিধ্বস্ত হয়। খবর পেয়ে আমিসহ দায়িত্বরত কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি। ওই এলাকার প্রায় ৯০ একর জমির রোপা আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে ক্যানেলে পানি প্রবাহ ও স্রোত বেশি থাকায় ভাঙন স্থানে কোনোভাবে মেরামত করা সম্ভব হচ্ছেনা। স্রোত কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন অংশে মেরামত কাজ শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, এই রোপা আমন ক্ষেত চার-পাঁচ দিন পানির নিচে থাকলেও কৃষকের তেমন একটা ক্ষতি হবে না। এরপরেও তারা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক আহমেদ বলেন, ক্ষেত থেকে পানি দ্রুত নেমে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না। তবে রোপা আমন ক্ষেতে যদি ১০ থেকে ১২ দিন পানিতে তলিয়ে থাকে সেই ক্ষেত্রে কৃষকের আর্থিক ক্ষতি হবে। আমরা সবসময় খোঁজ রাখছি।