সাইকেল ম্যাজিকে সাদুল্লাপুর মাতাচ্ছেন রিশাদ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার তরুণদের মধ্যে এখন এক নতুন রোমাঞ্চের নাম মিনহাজুল ইসলাম রিশাদ। সাধারণ দুই চাকার সাইকেলটি তাঁর হাতে পড়লেই যেন হয়ে ওঠে এক জাদুর কাঠি। কখনও সামনের চাকা উঁচিয়ে ‘হুইলি’, কখনও পেছনের চাকায় ভর দিয়ে ‘ম্যানুয়াল’, আবার কখনও চোখের পলকে ‘বানি হপ’ এমন সব রুদ্ধশ্বাস স্টান্টে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন এই কলেজ শিক্ষার্থী।

সাদুল্লাপুরের বনগ্রাম ইউনিয়নের ছোট গয়েশপুর গ্রামের মিলন মণ্ডল ও শিবলী আক্তার দম্পতির ছেলে রিশাদ। বর্তমানে তিনি গাইবান্ধা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশে ছাত্র। এলাকার সাহাপাড়া রাস্তা কিংবা স্কুল মাঠ, সবখানেই রিশাদের সাইকেল কসরত দেখতে ভিড় জমান স্থানীয়রা। সাইকেলের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ এতটাই নিখুঁত যে, অনায়াসেই এক চাকায় পাড়ি দিতে পারেন দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত পথ!


রিশাদের এই যাত্রার শুরুটা হয়েছিল, এক বন্ধুকে স্টান্ট করতে দেখে। প্রথমে শুধু মজার ছলে শুরু করলেও ধীরে ধীরে এটি তাঁর নেশায় পরিণত হয়। যে ছেলেটি এক সময় দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকত, কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে আজ সে নিজেই অনেকের অনুপ্রেরণা।

রিশাদের মতে, সাইকেল স্টান্ট শুধু বিনোদন নয়, এটি শরীরের জন্যও বেশ উপকারী। তিনি বলেন, নিয়মিত সাইকেল চালালে ওজন ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং পায়ের পেশি শক্তিশালী হয়।


সাইকেল স্টান্ট এখন অনেক তরুণের কাছে আত্মপ্রকাশের এক শৈল্পিক মাধ্যম হয়ে উঠছে। তবে, রিশাদ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এই রোমাঞ্চের সঙ্গে ঝুঁকিও জড়িয়ে আছে। তাই সঠিক প্রশিক্ষণ, হেলমেটসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং যথেষ্ট সচেতনতা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

ভবিষ্যতে সাইকেল স্টান্ট নিয়ে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে রিশাদের। সঠিক দিক-নির্দেশনা পেলে এই তরুণরাই একদিন সাইকেল স্টান্টকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারেন। গাইবান্ধার এই সাহসী তরুণের জন্য রইল শুভকামনা!