দেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর পর এবার শেরপুরের নালিতাবাড়ী এবং দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় দুটি সীমান্তেই বিএসএফের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় বাড়তি জনবল মোতায়েন, অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন এবং গ্রামবাসীদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভার মাধ্যমে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে বিজিবি।
একাত্তরের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার পাঠানো বিস্তারিত খবর:
শেরপুর সীমান্তে দালাল চক্রের সহায়তায় পুশইনের চেষ্টা
ভারতের মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা দিয়ে ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয় জনতা। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে রামচন্দ্রকুড়া সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পরে শনিবার (৬ জুন) ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বিজিবি জানায়, ভারতের ২২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বাবুরামবিল ক্যাম্পের আওতাধীন চেরাংপাড়া নামক স্থানে ছয়জন লোককে মেঘালয় থেকে ধরে নিয়ে এসে রাখা হয়। পরে আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের সহায়তায় কাঁটাতারবিহীন সীমান্ত এলাকা দিয়ে গতকাল দুপুরে তাদের বাংলাদেশে পুশইনের পরিকল্পনা করা হয়। তবে আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য থাকায় রামচন্দ্রকুড়া বিওপির ১১৮ নম্বর পিলারের শূন্য লাইন থেকে আনুমানিক ৪০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরেই বিএসএফকে বাধা দেয় বিজিবি। বিজিবি ও স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ বলেন, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমানা রক্ষায় এবং যেকোনো প্রকার অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সদা জাগ্রত থেকে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তে মাদক, চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন রোধকল্পে বিজিবি কঠোর নীতি অনুসরণ করছে এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বিজিবি আরও জানায়, এই ঘটনার পর থেকে শেরপুর সীমান্তের সব বিওপিতে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য পুশইন পয়েন্টগুলোতে ২৪ ঘণ্টা ডিউটি চলছে। এলাকায় মাইকিং করার পাশাপাশি গ্রামবাসীদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সোর্স নিয়োগের মাধ্যমে পুশইনে সহায়তাকারী বাংলাদেশি দালালদের পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হিলিতে বিজিবির তৎপরতায় পিছু হটলো বিএসএফ
এদিকে দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে পাঁচজনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যদের তাৎক্ষণিক ও কঠোর তৎপরতায় বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়।
শনিবার (৬ জুন) ভোরে হাকিমপুর উপজেলার ঘাসুড়িয়া সীমান্তে এই ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ভোরে ঘাসুড়িয়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের চকগোপাল এলাকার ২৮৮ নম্বর মেইন পিলারের সাব-পিলার এলাকায় পাঁচজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ সদস্যরা। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি টহল দল দ্রুত সেখানে অবস্থান নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিজিবির এমন শক্ত অবস্থানে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হলে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের নিয়ে ওপারে ফিরে যায়।
জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লতিফুল বারী বলেন, ঘটনার পরপরই আমি নিজে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন এবং জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই কেউ অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ওই সীমান্তের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ওপারে কোনো অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়নি। তবে পুরো বিষয়টিকে বিজিবি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থায়ী পোস্টের সংখ্যা ও টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।