শেরপুরে দুই দিনের ব্যবধানে আলাদা স্থানে এক শিশু (১১) ও এক তরুণীকে (২০) ধর্ষণের অভিযোগে থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। শুক্রবার (২২ মে) রাতে ও শনিবার (২৩ মে) দুপুরে সদর থানায় মামলা দুটি দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শহরের ঢাকলহাটি এলাকার ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ৩-৪ মাস আগে নানা প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন একই এলাকার কাওসার মিয়া (২৪)। এতে শিশুটি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানতে পেরে কাওসারের পরিবার জোর করে ওষুধ খাইয়ে শিশুটির গর্ভপাত করায়। এতে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হলে শুক্রবার বিকেলে তাকে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে মামলা না করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরে শনিবার দুপুরে শিশুটির মা বাদি হয়ে কাওসার মিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—কাওসারের বাবা শাহীন মিয়া (৪৫), মা কল্পনা বেগম (৪২), স্থানীয় সুন্নত আলী (৬৫) ও তার মেয়ে রোকশানা বেগম (৪৪)।
অন্যদিকে, সদর উপজেলার চরখারচর এলাকায় এক তরুণী (২০) বাড়ির পাশে চারণভূমি থেকে গরু আনতে গিয়ে বৃষ্টির কারণে একটি দোকানের পাশে আশ্রয় নেন। এ সময় চরখারচর এলাকার মামুন মিয়া (৪০) তাকে টেনেহেঁচড়ে দোকানের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মামুন হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়ে মামলা বন্ধের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ওই তরুণী বাদি হয়ে মামুন মিয়াসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন—চরখারচর এলাকার আতিক (৩৫) ও জাকির হোসেন (৪৫)।
শেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সোহেল রানা জানান, থানায় আলাদা দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান চলছে।
