কুড়িগ্রামে দুই সপ্তাহে তিস্তার গ্রাসে ১৯ বাড়ি, হুমকিতে দুই শতাধিক

কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ ১৮টি নদ-নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তিস্তা নদীর ভাঙন। জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ এলাকায় গত দুই সপ্তাহে তিস্তার পেটে গেছে ১৯টি বসতবাড়ি।

বর্তমানে এই এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও দুই শতাধিক ঘরবাড়ি, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মসজিদ। আকস্মিক এই ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীতীরের মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দার  জানান, শুধু তিস্তাই নয়, ধরলা নদীর পাড়ের যাত্রাপুর, সারডোব, আরাজি পলাশবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায়ও ভাঙন চলছে। তিস্তার ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভাঙনের ব্যাপ্তি আরও বেড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেলার নদ-নদীর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার অববাহিকার অন্তত ৩০টি পয়েন্টে বর্তমানে তীব্র ভাঙন চলছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিবেচনায় ভাঙন ঠেকাতে ইতিমধ্যে ৩০টি পয়েন্টে প্রায় দুই লাখ জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। ভাঙন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড তৎপর রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।