পঞ্চগড় সদর উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে।সম্প্রতি সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
নির্যাতিত শিক্ষকের নাম মাহামুদ আলম প্রধান। তিনি উপজেলার গড়িণাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। পৈশাচিক এই নির্যাতনের ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক বর্তমানে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে সফিজুল, নুর ইসলাম ও বাবুসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে শিক্ষক মাহামুদ আলমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো। গত সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়ে অর্ধদিবস ছুটি নিয়ে ব্যাংক ও দাপ্তরিক কাজে বের হন তিনি। পথে মাগুড়া প্রধানপাড়া এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা বিবাদিরা তার মোটরসাইকেলের গতিপথ রোধ করে। এরপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর চড়াও হয় হামলাকারীরা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা শিক্ষককে একটি কাঁঠালগাছের সঙ্গে গলা থেকে পা পর্যন্ত রশি দিয়ে বেঁধে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালায়। হামলায় তার বাম হাতের আঙুল ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। এ সময় জমি বন্ধকের পাওনা মেটানোর জন্য ব্যাগে থাকা এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসতে চাইলে হামলাকারীরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষক মাহামুদ আলম প্রধান বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতেই নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। আমাকে যেভাবে গাছে বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন করা হয়েছে, আমি তার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আনসার আলী নামের এক অভিযুক্ত মুঠোফোনে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে দাবি করেন, ঘটনার সময় আমি এলাকায় ছিলাম না। পরে এসে বিস্তারিত জানতে পেরেছি।
ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিষ চন্দ্র বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই আমি গ্রাম পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। তবে তার আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে।
পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোখলেছুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষক মাহামুদ আলম প্রধান বুধবার (৫ আগস্ট) নিজেই বাদি হয়ে একটি লিখিত এজাহার জমা দিয়েছেন। বিষটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।