রংপুরে সপরিবারে শিক্ষক হত্যা: ডাকাতি নাকি পরিকল্পিত বলতে নারাজ পুলিশ

রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে জিলা স্কুলের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক অবস্থায় এটিকে ডাকাতি মনে হলেও ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় জানানো হয়নি।

উদ্ধার করা মরদেহগুলো হলো—রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, তাদের মেয়ে কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আগামী চক্রবর্তী এবং ছোট ছেলে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রীয়ম চক্রবর্তী (আয়ুশ)। গণপতি চক্রবর্তী এক বছর আগে চাকরি থেকে অবসরে যান। অবসরের টাকা দিয়ে মাছুয়াপাড়ায় সম্প্রতি দোতলা বাড়িটি নির্মাণ শুরু করেছিলেন, যার কাজ এখনও অসম্পূর্ণ।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গভীর রাতের পর থেকে পরিবারটির সঙ্গে স্বজনদের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলো। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী পরিবারটির সদস্যদের ফোনে চেষ্টা করে সবার মোবাইল বন্ধ পান। পরে রাতে তিনি কামালকাছনার বাসায় এসে ফটক বন্ধ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

উদ্ধারের সময় দেখা যায়, গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পড়ে ছিলো ছাদের এক প্রান্তে। স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় ছাদের সিঁড়ি ও চিলেকোঠা থেকে। ছোট ছেলে প্রীয়মের মরদেহ পাওয়া যায় ভেতরের ঘরের বিছানার নিচে। পুরো ঘরের আসবাবপত্র ও আলমারির জিনিসপত্র এলোমেলো ও তছনছ অবস্থায় ছিলো।

মরদেহ উদ্ধারের পর রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী জানান, নিহতদের সবার গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘরবাড়ি তছনছ থাকায় প্রাথমিকভাবে এটিকে ডাকাতির উদ্দেশ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হলেও সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

এদিকে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এক পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো নগরজুড়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এই মহল্লায় প্রায় সাড়ে তিনশ লোকের বাস। একজনের চিৎকারও অন্তত ৫০ জনের কানে যাওয়ার কথা। 

ঘটনাটি পরিদর্শনে এসে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং জামায়াতে ইসলামীর মহানগর আমির মাহবুবুর রহমান বেলাল দাবি করেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।

তবে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ বা নেপথ্যের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে এখনই কিছু মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।