দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। রোববার সকাল থেকে এই কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় গভীর সংকটে পড়েছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও বন্দরকেন্দ্রিক সাধারণ শ্রমিকরা।
পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া এবং সুযোগ-সুবিধার অভাবকে এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অন্যান্য বন্দরে সুযোগ-সুবিধা বেশি থাকায় সেখানে বাণিজ্য বাড়লেও হিলিতে তা দিন দিন কমেছে।
আগে যেখানে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৫০টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করত, তা নেমে এসেছে ২০-৩০টিতে। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না পাওয়া পর্যন্ত পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বাণিজ্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। তবে বন্দরের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাজ স্বাভাবিক থাকবে।
বাণিজ্য বন্ধের এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারকরা। পাইপলাইনে আটকে থাকা বহু কাঁচাপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলবে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে কাজ না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করা বন্দর শ্রমিকদের কপালেও এখন চিন্তার ভাজ। হঠাৎ কাজ হারিয়ে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
আমদানি-রপ্তানি স্তব্ধ হওয়ায় সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হবে। হিলি শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা প্রিন্স কুমার কুন্ডু জানান, বাণিজ্য স্বাভাবিক না থাকলে শুল্ক স্টেশনের বাৎসরিক রাজস্ব জমার নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না।