গাইবান্ধায় অসুস্থ গরু জবাইয়ের পর অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ, আক্রান্ত ৩৫

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস কাটাকাটির পর অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। গত দুই দিনে নতুন করে আরও তিনজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।

এদিকে রোগের বিস্তার ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার গবাদিপশুকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে নানা কার্যক্রম শুরু করেছে স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

ঘটনাটি ঘটেছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটি গ্রামে। স্থানীয়রা জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর ওই গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল ইসলাম একটি অসুস্থ গরু জবাই করেন। স্থানীয় বেশ কয়েকজন ওই গরুর মাংস কাটাকাটি ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে অংশ নেন। পরে সেই মাংস কয়েকটি পরিবারে ভাগ করে দেওয়া হয়।

এর কয়েক দিন পর মাংস কাটাকাটিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের শরীরে জ্বর, মাথাব্যথা এবং ত্বকে বিশেষ ধরনের ফোস্কার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। চিকিৎসকেরা এগুলোকে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ হিসেবে সন্দেহ করছেন। অসুস্থ ব্যক্তিরা পর্যায়ক্রমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে শুরু করেন।

গত দুই দিনে নতুন করে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন সর্বানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম বাছহাটি গ্রামের তিনজন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৩৫ জন আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত রোগী চিকিৎসা নিলেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানানো হয়েছে, উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (রোগ নিয়ন্ত্রক) ডা. মেহেদি হাসান বলেন, অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অসুস্থ পশু জবাই ও মাংস কাটাকাটির ক্ষেত্রে সবাইকে শতভাগ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, মানুষ থেকে মানুষের পাশাপাশি পশুর মধ্যেও যাতে রোগটি আর না ছড়ায়, সে জন্য রিং ভ্যাকসিনেশন পদ্ধতিতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলায় মোট প্রায় দুই লাখ ৫৪ হাজার গবাদিপশু রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ২০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিনের মধ্যে ১৯ হাজার পশুকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। অতিরিক্ত আরও ১০ হাজার ভ্যাকসিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে এলাকায় উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ এবং স্থানীয় মাংস বিক্রেতাদের সঙ্গে সভা পরিচালনা করা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোনো অসুস্থ বা সন্দেহজনক পশু জবাই না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।