সেতুর অনুমোদন পেতেই মীরগড়ে মিষ্টি বিতরণ!

পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার খবরে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে নদীর দুই পাড়ের মানুষের মাঝে। দীর্ঘদিনের কষ্ট ও ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে কোটি কোটি টাকার প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পাওয়ার খবরে উল্লাসে মেতে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার বিকেলে, প্রকল্প অনুমোদনের আনন্দময় বার্তা পৌঁছাতেই উল্লাস প্রকাশ করে সর্বস্তরের মানুষ একে অপরের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন।

একনেক সভায় অনুমোদিত এই প্রকল্পটি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর থেকে সদর উপজেলার মীরগড় সড়কের মীরগড় অংশে করতোয়া নদীর ওপর বাস্তবায়ন করা হবে। সেতুটি নির্মাণে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। প্রকল্পটির কাজ ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে করতোয়া নদীর এই পয়েন্টে কেবল একটি নড়বড়ে কাঠের সাঁকোই ছিল দুই পারের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে এই পথ পার হতে হতো, তদুপরি প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য পারাপার পিছু গুণতে হতো ১০ টাকা করে টোল। বর্ষাকালে কিংবা ভারী পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পৌঁছাত চরম সীমায়। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তেন স্থানীয় কৃষকেরা; তাঁদের উৎপাদিত শাকসবজি ও ফসল বাজারে নিয়ে যাওয়া ছিল এক বিরাট চ্যালঞ্জ। এছাড়া মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত জেলা বা উপজেলা সদরের হাসপাতালে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। নতুন এই পাকা সেতুটি নির্মিত হলে এসব দুর্দশার চিরতরে অবসান ঘটবে।

Panchaghar Bridge 1
প্রকল্প অনুমোদনের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার বিকেলে মীরগড় এলাকায় জড়ো হন শত শত উৎসুক জনতা। স্থানীয় বাসিন্দা জয় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কাঠের সেতু দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে ও ভারী যানবাহন পারাপারের সময় ভয়ের শেষ থাকত না। নতুন স্থায়ী সেতু হওয়ার খবরটি আমাদের জন্য স্বপ্নের মতো আনন্দের।" অপর বাসিন্দা আসিম উদ্দিন বলেন, "এই সেতুটি সম্পন্ন হলে আমাদের কৃষিপণ্য সহজে শহরের বাজারে পৌঁছানো যাবে। শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসার জন্য পঞ্চগড় শহরে যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে যাবে।

পঞ্চগড় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মোতাহার আলী প্রকল্পের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মীরগড় এলাকায় দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণের প্রস্তাবটি একনেক সভায় পাস হয়েছে। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ওই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে, সেই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে আসবে এক অভূতপূর্ব গতিশীলতা।