সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমেছে। এতে নদী তীরের এলাকা থেকে পানি কিছুটা নেমে গেছে। জেলায় বৃষ্টি কিছুটা কমলেও হাওর এলাকায় পানি আরও বেড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর থেকে বুধবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত সুরমার পানি ২৮ সেন্টিমিটার কমেছে। আর বুধবার সকালে সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমার পানি বিপৎসীমার ৮.২০ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।
এই প্রতিবেদন লেখার সময় সুরমার পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সুরমার পানি ৪৮ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিলো।
এদিকে, পানিতে সুনামগঞ্জ সিলেট সড়কের বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও জামালগঞ্জ সুনামগঞ্জ সড়ক, ছাতক দোয়রাবাজার সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল জানিয়েছেন, বন্যার্তদের জন্য ৫৩১টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত আছে। এরই মধ্যে ১২ হাজার ৪৩৯ জন বন্যার্ত আশ্রয় নিয়েছেন। ইতিমধ্যে জেলার তিনটি পৌরসভা, ৬৯টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়েছে। প্রশাসন বন্যার্তদের জন্য প্রতি উপজেলায় ত্রাণ, শুকনো খাবারসহ সরকারি সহায়তা পাঠিয়েছে। বন্যায় প্রায় পৌনে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি আছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য জানান, সুমানগঞ্জে ২০২২ সালের মতো বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমাদের দাবি ছিল, সুরমা, কুশিয়ারায় খনন করে এই এলাকা বন্যার কবল থেকে মুক্ত করা হোক। কিন্তু এখমন পর্যন্ত আমরা লক্ষ্য অর্জনে সফল হই নাই। তবে অংশ বিশেষে কাজ চলছে, সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রজেক্টে আমরা পুরোপুরি সফল হই নাই। যার ফলে অল্প বৃষ্টিতেই বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে।