প্রায় এক মাস পর স্কুল খোলার আনন্দে ভাসছে শিক্ষার্থীরা। একইদিন ৬২টি প্রতিষ্ঠানে শুরু হলো ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন শিক্ষাক্রমের পরীক্ষামূলক ক্লাস।
শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলছেন, নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীরা বুঝে শিখবে। এখানে শিক্ষকদের দায়িত্ব অনেক বেশি।
করোনা নতুন ধরন ওমিক্রনের দাপটে এক মাসে ছুটির আড়মোড়া ভেঙ্গে মঙ্গলবার বসন্ত সকালে আবারো প্রাণের শিক্ষালয়ে ফেরে শিশুরা।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী এখন থেকে ২০২২ সালের এসএসসি আর এইচএসসি আর নতুন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাসে আসবে। আগামী ২ মার্চ খুলবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো।
ষষ্ঠ সপ্তম অষ্টম নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন আসবে না। তবে দিনের সংখ্যা যাই হোক স্কুলে আসার আনন্দেই আপ্লুত শিক্ষার্থীরা।
দুই ডোজ টিকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও রাজধানীর বেশিরভাগ স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণির অনেক শিক্ষার্থী পায়নি টিকা। তাদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
পর্যায়ক্রমে ক্লাসের সংখ্যা বাড়বে জানালেন মাউশি মহাপরিচালক। টিকার বিষয়টি সহজ করতে আলোচনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: সবুজ সংকেত পেলেই ১২ বছরের কম বয়সীদের টিকা
এদিকে ছুটি শেষে স্কুলের প্রথম দিনেই শুরু হলো ষষ্ঠ শ্রেণির পরীক্ষামূলক ক্লাস। সারাদেশে এই ক্লাসের এর আওতায় এসেছে ৬০টির বেশি প্রতিষ্ঠান।
নতুন ধরণের বই পেয়ে খুশি শিক্ষার্থী। আর শিক্ষামন্ত্রী বললেন, এখন শিক্ষকদের দায়িত্ব আরো বাড়লো। কারণ শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পড়াতে হবে। ফলে দায়িত্বও বেশি।
দীপু মনি জানান, নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তন হবে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিদ্যমান পরীক্ষার চেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক মূল্যায়ন (শিখনকালীন) বেশি হবে।
এর মধ্যে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা হবে না, মূল্যায়ন হবে সারা বছর ধরে চলা বিভিন্ন রকমের শিখন কার্যক্রমের ভিত্তিতে।
পরবর্তী শ্রেণিগুলোর মূল্যায়নের পদ্ধতি হিসেবে পরীক্ষা ও ধারাবাহিক শিখন কার্যক্রম দুটিই থাকছে। আর দশম শ্রেণির আগ পর্যন্ত পাবলিক পরীক্ষা না নেয়ার কথা রয়েছে এই শিক্ষাক্রমে।
নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে মাধ্যমিক শিক্ষায় আলাদা কোনো বিভাগ থাকছে না। এখন নবম শ্রেণিতে যেভাবে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বেছে নিতে হয়, শিক্ষার্থীদের সে রকম কোনো ভাগ তখন আর থাকবে না।
দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে অভিন্ন ১০টি বিষয় পড়তে হবে। বিভাগ বিভাজন হবে উচ্চ মাধ্যমিকে গিয়ে। আর আগামী বছর থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন হবে।
মঙ্গলবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে নতুন শিক্ষাক্রমের পরীক্ষামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, করোনার কারণে আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চাই না। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে।