সেই বিতর্কিত প্রশ্নে অভিযুক্তদের তালিকা প্রকাশ, তদন্ত কমিটি

এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা বিষয়ে ‘বিতর্কিত প্রশ্ন’ তৈরির ঘটনায় পাঁচ শিক্ষককে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের নামের তালিকাও প্রকাশ করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) ঢাকা বোর্ড থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। একই দিন তদন্ত কমিটির বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো আহসান হাবীব।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের মধ্যে যশোর শিক্ষা বোর্ডের একজন প্রশ্নকর্তা ও চারজন মডারেটর রয়েছেন। 

তারা হলেন- প্রশ্নকর্তা ঝিনাইদহের মহেশপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার পাল। অপরদিকে প্রশ্নপত্র পরিশোধনের দায়িত্বে ছিলেন নড়াইলের সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ তাজউদ্দীন শাওন, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান, নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের সহকারী অধ্যাপক শ্যামল কুমার ঘোষ এবং কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম।

এদিকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আহসান হাবীব বলেন, পরীক্ষার প্রশ্নে ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে যশোর শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক কে এম রব্বানীকে আহবায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পরবর্তী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিতর্কিত সেই প্রশ্নটি ছিল-‘নেপাল ও গোপাল দুই ভাই। জমি নিয়ে বিরোধ তাদের দীর্ঘদিন। অনেক সালিশ-বিচার করেও কেউ তাদের বিরোধ মেটাতে পারেনি। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এখন জমির ভাগ বণ্টন নিয়ে মামলা চলছে আদালতে। ছোট ভাই নেপাল বড় ভাইকে শায়েস্তা করতে আব্দুল নামে এক মুসলমানের কাছে ভিটের জমির এক অংশ বিক্রি করে। আব্দুল সেখানে বাড়ি বানিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। কোরবানির ঈদে সে নেপালের বাড়ির সামনে গরু কোরবানি দেয়। এই ঘটনায় নেপালের মন ভেঙ্গে যায়। কিছুদিন পর কাউকে কিছু না বলে জমি-জায়গা ফেলে সপরিবারে ভারতে চলে যায় সে।’

এদিকে এমন প্রশ্নে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরীক্ষার প্রশ্নে এ ধরনের বিষয় তুলে ধরায় সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অনেকে। 

আরও পড়ুন: ওসিসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে তাবিথের মামলার আবেদন খারিজ

এ বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকার বলেন, বিষয়টির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশ্নপত্রে ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয় আসাকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, এমন কাজে যারা যুক্ত আছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


একাত্তর/এসি