কাগজ তৈরির মূল কাঁচামাল পাল্প সঙ্কটে এবার বইয়ের মান শতভাগ ঠিক রাখা যায়নি বলে স্বীকার করলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।
তিনি বলেন, বিকল্প না থাকায় বইয়ের মানে ছাড় দিতে হয়েছে। শতভাগ বই ছাপার কাজ এখনো শেষ হয়নি। তবে জানুয়ারির মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে সব পৌঁছে যাবে।
নতুন বছরে নতুন বই। তাই ছোট শিশুদের উচ্ছ্বাসটাই ভিন্ন। বই পাওয়ার আগ্রহে সকালেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তের স্কুল থেকে শিক্ষার্থীরা হাজির হয় ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে।
প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই দেয়া হয়। শ্রেণি ভেদে সব বিষয়ের বই প্রথমদিনে পাওয়া যায়নি। তারপরও শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘাটতি ছিলো না উৎসবের।
সরকারি তথ্য, সারাদেশে প্রাইমারি স্কুলে ৬০.৫১ শতাংশ বই সরবরাহ হয়েছে। তবে রাজধানীর অনেক স্কুলেই শতভাগ বই পৌঁছায়নি।
পঞ্চম শ্রেণির বইয়ের পরিবর্তে চতুর্থ শ্রেণির বই দিয়ে অনেককে উৎসবে আনা হয়েছে। এরপর নতুন বই শিশুদের কাছে কাছে ছিলো পরম প্রাপ্তি। বইয়ের ঘ্রাণ বিভোর হয়েছে শিশুরা।
করোনার কারণে ২০২১-২০২২ দুই বছর বন্ধ ছিলো বই উৎসব। নতুন বই দেয়া হলেও বইয়ের মান আগের চেয়ে কিছুটা নিম্নমানের বলছেন শিক্ষকরা।
দরপত্র অনুযায়ী ৮০ গ্রামের অফসেটের উজ্বল কাগজে বই হবার কথা। কিন্তু এবারের বই দেয়া হয়েছে নিউজ প্রিন্ট কাগজে।
কেন এমন হলো জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, কাগজ উৎপাদনের কাঁচা পণ্যের সংকট ছিলো। তাই মান ধরে রাখা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, সব বই কাগজের অভাবে প্রেস থেকে দিতে পারেনি। আগামী এক মাসের মধ্যে আমরা সব বই শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করতে পারবো আশা করি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বছর দুই কোটি ১৮ লাখ তিন হাজার ৩০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯ কোটি ৬৬ লাখ আট হাজার ২৪৫টি বই বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
আরও পড়ুন: আনন্দ উচ্ছ্বাসে সারাদেশে বই উৎসব, ছিল ঘাটতিও
শিশুদের ‘স্মার্ট নাগরিক’ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের কারিগর আজকের এই প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা।
সারাদেশে প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হবে। এ মাসের মধ্যেই সব বই সবার হতে পৌছে যাবে বলে নিশ্চিত করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকরি হোসেন।
একাত্তর/এসি