শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের লক্ষ্যে অবশেষে প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল। এবারের পরীক্ষার সামগ্রিক ফল দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এক উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরেছে। সারাদেশে পাসের হার নেমে এসেছে ৫১ দশমিক ১২ শতাংশে (আগের বছরের তুলনায় যা আশঙ্কাজনকভাবে কম), যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। শুধু পাসের হারই নয়, জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও বড় পতন দেখা গেছে। গত বছর যেখানে ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন, এবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জনে। অর্থাৎ এক বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।
এদিকে দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেয়া কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। শনিবার বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ফল প্রকাশের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কীভাবে সীমিত পরিসরে পুনর্বিন্যাস করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছে সরকার। রাতারাতি বন্ধ না করে এসব প্রতিষ্ঠানকে পার্শ্ববর্তী সফল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে তিনি স্পষ্ট জানান, প্রতিষ্ঠান পুনর্বিন্যাসের কারণে কোনো শিক্ষকের চাকরি হারানোর ঝুঁকি নেই।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর: শিক্ষায় ড্রপআউট বা ক্ষতি কমাতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে। একজন শিক্ষার্থী যতটি বিষয়ে ফেল করেছে, তাকে কেবল সেই বিষয়গুলোতেই অংশ নিতে হবে।
বোর্ডভিত্তিক ফলাফলের চিত্র: সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার তুলনামূলক ভালো- ৬১.৮০% (জিপিএ-৫: ১৬,৭১৪ জন)। অন্য বোর্ডগুলোর চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ বোর্ডের তুলনায় মাদরাসা বোর্ডে ফলাফলের হার তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও কারিগরি ও দক্ষিণাঞ্চলের বোর্ডগুলোতে পাসের হার মারাত্মকভাবে কমেছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর ফলাফল পর্যালোচনার মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।