এক মাসের মধ্যে অকৃতকার্য বিষয়ে পরীক্ষার সুযোগ!

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীর মূল্যবান একটি বছর নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে আগামী এক মাসের মধ্যেই শুধু অকৃতকার্য হওয়া বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিশেষ সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই বিশেষ সুযোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মাহদী আমিন বলেন, সাধারণত পাবলিক পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলে তাকে পরবর্তী বছর পর্যন্ত পুরো একটি বছর অপেক্ষা করতে হয়। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়, অন্যদিকে তাদের ওপর তীব্র মানসিক চাপ তৈরি হয়। এই দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতেই সরকার এবার ১-২ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে।

এবারের ফলাফলের সংক্ষিপ্ত চিত্র: এর আগে শনিবার বেলা ১১টায় চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশিত হয়। এবারের পরীক্ষায় সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সারা দেশে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।

বোর্ডভিত্তিক ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে বেশি— ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে চট্টগ্রামে ৫২.০৭% (জিপিএ-৫: ২,৯২৯ জন), ময়মনসিংহে ৫১.৪৪% (জিপিএ-৫: ২,১৩৭ জন) এবং সিলেটে ৫০.৯০% (জিপিএ-৫: ১,২০৪ জন) পাসের হার অর্জিত হয়েছে।

তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা বোর্ডগুলোর মধ্যে কুমিল্লায় পাসের হার ৪৮.০৪% (জিপিএ-৫: ১,৩১৩ জন), রাজশাহীতে ৪৫.০৬% (জিপিএ-৫: ৪,৫২০ জন), দিনাজপুরে ৪৫.৯৮% (জিপিএ-৫: ২,৯১৫ জন), যশোরাঞ্চলে ৪৪.৯২% (জিপিএ-৫: ৩,২২৮ জন) এবং বরিশালে পাসের হার ৪৪.৮৪ শতাংশ।

শিক্ষাবিষয়ক বিশ্লেষকরা সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, মাত্র এক মাসের মধ্যে এই বিশেষ পরীক্ষার আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং তাদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হবে।