স্বামীকে আবাসিক হলে ডেকে এনে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এসময় ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করাসহ অন্যান্য দাবি জানান তারা। তাদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করা দেয়ার দাবিটি সামনে এসেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে অবৈধ ছাত্ররা থাকেন, এটা পুরনো অভিযোগ। তবে এবার ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতা মুস্তাফিজ ও বহিরাগত মামুন ডেকে এনে স্বামীকে আটকে রেখে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ করার ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলে অবৈধদের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে ।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, গত বছর জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মাদক বহনকালে তার ধাক্কায় একজন অটোরিকশা চালক নিহত হন। একই সাথে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা আহত হলে তার গর্ভের সন্তান মারা যায়।
তারা জানান, দুর্ঘটনার সময় অ্যাম্বুলেন্সটিতে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক রিফাত চৌধুরী ও উপ-অর্থ সম্পাদক আহসান হাবিব ইমন। দুইজনই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মীর মোশাররফ হোসেন হলে অবৈধভাবে বসবাস করতেন স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তারকৃত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। অভিযুক্তকে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে জাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাহ পরান, সহ-সম্পাদক মুরাদ হোসেন ও কার্যকরী সদস্য সাব্বির হাসানের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার পর হলগুলোতে অবৈধ শিক্ষার্থীদের বিষয়টি নিয়ে বেশ জোরেশোরে আন্দোলন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের নেতারা এসব হলে অবৈধদের বসবাস করতে দিচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর ফিরোজ উল হাসান জানান, হলগুলোতে আসন সঙ্কট ছিলো দীর্ঘদিন ধরে। হলে আট হাজার আসনের বিপরীতে ১৩-১৪ হাজার শিক্ষার্থী ছিলো। বহিরাগত ও পাস করারা সে সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে হলে থাকতো।
তিনি আরও জানান, নতুন হল নির্মাণের পর সে সঙ্কট নেই। এখন প্রশাসন চেষ্টা করছে বহিরাগতরা যেন হলে না থাকে। এ চেষ্টাটা শুরু হয়েছে মাত্র। আর এরকম সময়েই এমন একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলো।
এ ঘটনার সাথে জড়িত যে ছেলেগুলো, তাদের বের করে দেয়ার জন্যই তারা প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে, গত বছর ছাত্রলীগ নেতাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মাদক পরিবহনের ঘটনা তিনি জানেন না বলে জানান প্রোক্টর।