‘সর্প বিলাসে’ আটঘাট বেঁধে নেমেছেন সৃজিত

নাটক-সিনেমায় বা কল্পকাহিনীতে মানুষ থেকে সাপ হয়ে যাওয়ার গল্প রয়েছে বহু। যেমন সত্যজিৎ রায়ের ‘খগম’ গল্পে ধূর্জটিবাবুর বালকিষণ হয়ে যাওয়ার ঘটনা। কিন্তু এসব তো বাস্তব নয়, নিছক কল্পনা। তবে কলকাতায় এবার কল্পনাকেও হার মানাচ্ছেন চিত্রপরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়! সিনেমার রেকিতে গিয়ে তিনি গলায় অজগর ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

পোষ্য প্রাণীর শখ অনেকের থাকে। পাখি, কুকুর, বেড়াল, খরগোশ প্রভৃতি পোষ্যের অভাব নেই মানুষের জীবনে। কিন্তু পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সাপ পোষার বিচিত্র শখের কোন তুলনা অন্তত বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আর নাকি নেই বলে জানিয়েছেন ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’। 

সৃজিতের সর্পপ্রেমের কথা অবশ্য অনেক আগে থেকেই ঘনিষ্ঠমহল জানতো। সম্প্রতি পরিচালক সমস্ত নিয়মকানুন মেনে একটি পাঁচ মাসের ফুটফুটে অজগর বাড়িতে নিয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছে ‘দ্য ওয়াল’।

সৃজিতের এই অজগর নাকি তার কন্যাসম, নাম রেখেছেন ‘উলুপী’। মহাভারতের বিষ্ণুপুরাণে নাগকন্যা উলুপীর কথা উল্লেখ আছে। সৃজিত জানিয়েছেন, সপ্তাহে একদিন একটা করে ইঁদুর দিলেই উলুপীর ভরপেট খাওয়া হয়ে যায়। খুব বেশি ঝামেলা নেই। যদিও অজগর পোষার বিরম্বনা বেশ। 

ভারতে যে ইন্ডিয়ান রক পাইথন পাওয়া যায়, তা পোষা নাকি আইনত দণ্ডনীয়। জরিমানার সঙ্গে ১০ বছরের জেল হতে পারে বলে ভারতীয় আইনে আছে। তবে বিদেশ থেকে অবশ্য অজগর আনায় নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু সেক্ষেত্রে বন দফরের আগাম সম্মতি নেওয়া আবশ্যক। সে জন্য বনবিভাগে গিয়ে দীর্ঘদিন এই নিয়ে খোঁজখবর করেছেন সৃজিত। পশ্চিমবঙ্গের বন বিভাগের মুখ্য বনপালের থেকেও লিখিত অনুমতি নিতে হয়েছে তাকে। 

সাধারণত যে সব প্রাণীর আবাসভূমি ভারতে নয়, সেরকম প্রাণীকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে বাড়িতে আনা যায় জেনে সৃজিতও সেই পথে হাঁটছেন। তার লেক গার্ডেন্সের বাড়ির ঘরেই দিব্যি দিন কাটছে এই অজগরের।

এই ঘটনার শুরুতে মিথিলা জানিয়েছিলেন, স্বামী সৃজিতের খুবই পছন্দের প্রাণী সাপ। সে সময় তিনি বলেন, ‘পোষ্য হিসেবে বাড়িতে অনেকগুলো সাপ তো আছে। প্রথমে একটি ছিলো, এখন হয়েছে চারটি। শুনছি, আরও আসবে। প্রথমে যখন একটি ছিলো, তখন খুব একটা ভয় পেতাম না। তারপর এই সংখ্যা যখন আট হবে, সেটা তো ভয়ের কারণ হবেই।