তামিলনাড়ুর মসনদে বসলেন রূপালি পর্দার সুপারস্টার ‘থালাপাতি’ বিজয়। তবে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে বিজয়ের এই রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানের সব আলো যেন কেড়ে নিলেন দক্ষিণী সুন্দরী তৃষা কৃষ্ণান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নাটকীয়তা আর সিনেমার গল্পের মতো ক্লাইম্যাক্স শেষে বিজয় যখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন, গ্যালারিতে তখন তৃষার উপস্থিতি উসকে দিল পুরোনো সব গুঞ্জন।
শপথের ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে মা উমা কৃষ্ণানকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হন তৃষা। তাঁর পরনে ছিলো ‘পোথিস’-এর গাঢ় নীল রঙের রাজকীয় সিল্ক কাঞ্জিভরম শাড়ি, সঙ্গে বেইজ রঙের কারুকাজ করা ব্লাউজ। আভিজাত্য বাড়াতে গলায় পরেছিলেন হীরা ও রুবি খচিত দামী হার। চুলে জড়ানো জুঁই ফুলের মালার গন্ধে আর হালকা মেকআপের স্নিগ্ধতায় তৃষাকে লাগছিল ঠিক যেন কোনো পর্দার রানি। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রী শুধু এটুকুই বলেন, এই ঘটনার সাক্ষী হতে উদগ্রীব হয়ে আছি।
গত ৪ মে তামিলনাড়ু নির্বাচনের ফল যখন প্রকাশ্যে আসে, কাকতালীয়ভাবে সেদিনই ছিল তৃষা কৃষ্ণানের জন্মদিন। নিজের জন্মদিনে বিজয়ের এই বিশাল জয়কে অনেকেই ‘লাকি চার্ম’ হিসেবে দেখছেন। জল্পনা আরও তুঙ্গে ওঠে যখন দেখা যায়, দীর্ঘ পাঁচ দিনের টানটান উত্তেজনা আর রাজনৈতিক জোটের সমীকরণ শেষে বিজয় যখন শপথ নিচ্ছেন, সেখানে সশরীরে উপস্থিত তৃষা।
গত কয়েক মাস ধরেই বিজয়-তৃষাকে নিয়ে গুঞ্জন তুঙ্গে। একদিকে স্ত্রী সংগীতার সঙ্গে বিজয়ের বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে, অন্যদিকে বিজয়ের রাজনৈতিক সফরের প্রতিটি ধাপে তৃষার ছায়ার মতো উপস্থিতি যেন আগুনের ঘি ঢালছে। যদিও তাঁরা দুজনেই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে স্পিকটি নট, কিন্তু রাজনৈতিক মঞ্চে তৃষার এই বিশেষ অতিথি হওয়া অনুরাগীদের মনে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, তবে কি পর্দার রসায়ন এবার বাস্তবেও কোনো নতুন মোড় নিচ্ছে?
স্টেডিয়াম ভর্তি মানুষের হর্ষধ্বনির মাঝে যখন তিনি তামিল ভাষায় শপথ নিলেন, তখন বিজয়ের চেহারায় ছিল জয়ের তৃপ্তি। যদিও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি, তবে জোটের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে তিনি এখন তামিলনাড়ুর ভাগ্যবিধাতা। আর তাঁর এই নতুন ইনিংসের শুরুতে গ্যালারি থেকে তৃষার সেই মায়াবী হাসি বলে দিচ্ছিল, এই পথচলায় বিজয়ের পাশে ‘বিশেষ কেউ’ একজন শক্তভাবেই আছেন।
রাজনীতি আর বিনোদনের এই মাখোমাখো মিশেল চেন্নাইয়ের বাতাসে এখন একটাই কথা ভাসছে, বিজয় তো রাজা হলেন, কিন্তু তৃষাই কি হতে চলেছেন তামিলনাড়ুর নতুন ‘ফার্স্ট লেডি’? উত্তরটা সময়ের হাতে।